রংপুর মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরো ১ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে হাম উপসর্গে ছয় শিশুর মৃত্যু হলো।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুরা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুরা |নয়া দিগন্ত

গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে হাম উপসর্গে ছয় শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়াও এই বিভাগে হাম শনাক্ত হয়েছে ৬০ জনের।

বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১২টায় এই তথ্য জানান রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হাম চিকিৎসার বিশেষ কমিটির ফোকালপারসন ডা: আনম তানভীর চৌধুরী।

তিনি জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় আইসোলেশন বিভাগে চিকিৎসাধীন আবু হুজাইফা নামে পাঁচ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। গত ২৯ মে হামের উপসর্গ নিয়ে পঞ্চগড় হাসপাতাল থেকে এখানে ভর্তি হয়েছিল শিশুটি।

তানভীর চৌধুরী আরো জানান, এই হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে এ নিয়ে হামের উপসর্গে ছয় শিশুর মৃত্যু হলো। অন্যরা হলেন ঠাকুরগাঁও সদর এলাকার নয় মাসের শিশু মনি আক্তার, নীলফামারীর ডিমলার ১১ মাস বয়সী জুনাইদ, লালমনিরহাটের হারহাটি গ্রামের রাকিব মিয়ার নয় মাসের ছেলে হাসান, কুড়িগ্রামের উলিপুরের সবুজ মিয়ার ২২ মাসের ছেলে জাকির এবং লালমনিরহাট সদরের রিয়াজুল ইসলামের সাত মাস বয়সী ছেলে তানজিদ ইসলাম তামিম।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর সূত্র জানিয়েছে, রংপুর বিভাগে ১ জানুয়ারি থেকে গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত ১১৬ জনের পরীক্ষায় ৬০ জনের হাম এবং ছয়জনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৯, নীলফামারীতে ১০, রংপুরে পাঁচ, দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিন, পঞ্চগড়ে দুই, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে চারজন করে এবং লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় একজন করে শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগের জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ১৬ জন। এ নিয়ে এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৪০৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ৩৩৩ জন এবং ভর্তি আছে ৭০ জন। এর মধ্যে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২২ জন রয়েছে। হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে দু’জন।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা: ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘আমরা সতর্ক আছি। মাঠকর্মীরাও কাজ করছেন। উপসর্গ দেখা মাত্রই হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে এই বিভাগে হামের পরিস্থিতি এখনো ভালো আছে। ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা বলা যাচ্ছে না।’