খুলনার কয়রা উপজেলার কয়রা–কাশিরহাটখোলা সড়ক নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ধস নেমেছে। পাশাপাশি কার্পেটিং বসে গিয়ে সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সাথে সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশে নির্মিত প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এটি কয়রা উপজেলার সবচেয়ে ব্যয়বহুল সড়ক হিসেবে পরিচিত। তবে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই সড়কের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ধস, হেজিং এবং প্যারাসাইডিং হেলে পড়ার ঘটনা দেখা যায়। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের মাঝামাঝি অংশ বসে গিয়ে অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
এছাড়া কয়রা বাজার এলাকায় কংক্রিট ঢালাইয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের রড ও লোনা বালু ব্যবহার করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের প্রস্থ নির্ধারিত মাপের চেয়ে কম রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবার সড়কের পাশের ড্রেনের স্লাব না দিয়েই কাজ শেষ করা হয়েছে।
খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সূত্রে জানা যায়, জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও উন্নীতকরণ (খুলনা জোন) প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে মেসার্স মাহবুব ব্রাদার্স কাজটি পায়। পরে ২০২৪ সালে সাব-ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব নেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন। তবে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গেলে আব্দুস সালাম ও জাকির হোসেন নামে দুই ব্যক্তি কাজটি শেষ করেন। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও ২০২৫ সালের মে মাসে কাজ সম্পন্ন হয়।
কয়রা বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সরদার জুলফিকার আলম বলেন, ‘কাজের সময় আপত্তি জানানো হলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি রাস্তার মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই ঢালাই করা হয়েছে, যা যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করছে।’
কয়রা-পাইকগাছা উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রায়হান কবির বলেন, ‘দীর্ঘদিন সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী ছিল। সংস্কারের পরও যথাযথ তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়সারাভাবে কাজ শেষ করেছে। অনিয়মের ফলে সড়কটির স্থায়ী সমাধান হয়নি।’
সাব-ঠিকাদার আব্দুস সালাম দাবি করেন, ‘তিনি কয়েক মাস আগে এলাকাটি পরিদর্শন করে তেমন সমস্যা দেখেননি। তবে কোথাও ত্রুটি থাকলে পরবর্তীতে ঐ এলাকায় কাজের সময় তা ঠিক করা হবে।’
এ বিষয়ে খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: তানিমুল হক বলেন, ‘তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি আগে অবগত ছিলেন না। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের প্রায় ১০ কোটি টাকা জামানত আটকে রাখা হয়েছে। সড়কের ত্রুটি দ্রুত সংস্কার না করলে জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।’
তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।



