ছাত্রী হোস্টেলে অনুপ্রবেশ, লেজার লাইট নিয়ে প্রশ্ন

টঙ্গী সরকারি কলেজে কনসার্ট ঘিরে নিরাপত্তাহীনতা

গাজীপুরের টঙ্গী সরকারি কলেজে আয়োজিত সাংস্কৃতিক উৎসব ও কনসার্ট ঘিরে চরম নিরাপত্তা শঙ্কা ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠান চলাকালে গভীর রাতে বহিরাগতদের ছাত্রী হোস্টেলে অনুপ্রবেশ, ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং হোস্টেলের জানালায় লেজার লাইট নিক্ষেপের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর

Location :

Gazipur
টঙ্গী সরকারি কলেজে কনসার্ট ঘিরে নিরাপত্তাহীনতা
টঙ্গী সরকারি কলেজে কনসার্ট ঘিরে নিরাপত্তাহীনতা |নয়া দিগন্ত

গাজীপুরের টঙ্গী সরকারি কলেজে আয়োজিত সাংস্কৃতিক উৎসব ও কনসার্ট ঘিরে চরম নিরাপত্তা শঙ্কা ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠান চলাকালে গভীর রাতে বহিরাগতদের ছাত্রী হোস্টেলে অনুপ্রবেশ, ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং হোস্টেলের জানালায় লেজার লাইট নিক্ষেপের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয়ে রাত দেড়টা পর্যন্ত কলেজ মাঠে চলে এই সাংস্কৃতিক উৎসব ও কনসার্ট। আয়োজক ছিল টঙ্গী সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় কলেজ শাখা ছাত্রদল।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনুষ্ঠান চলাকালে রাতের এক পর্যায়ে কলেজ মাঠসংলগ্ন ছাত্রী হোস্টেলের দেয়াল টপকে এবং টিনের বেড়া ভেঙে বহিরাগত কিছু যুবক ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা হোস্টেলের ভেতরে অবস্থান নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, হোস্টেলের সিঁড়িতে এক যুবক ও এক তরুণীকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় থাকতে।

হোস্টেল সুপার ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘ওরা বহিরাগত। টিনের বেড়া ভেঙে ও দেয়াল টপকে অনেকে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং হোস্টেলের ওপরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কনসার্ট দেখছিল। আমি গিয়ে তাদের সরিয়ে দিই। কিছুক্ষণ পর আবারও কিছু ছেলে-মেয়ে সেখানে জড়ো হয়। তবে তারা হোস্টেলের কেউ ছিল না।’

এদিকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে ছাত্রী হোস্টেলের জানালার দিকে লেজার লাইট নিক্ষেপের অভিযোগও উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠান মঞ্চের পূর্বপাশসহ মাঠের বিভিন্ন স্থান থেকে লেজার লাইট সরাসরি হোস্টেলের কাঁচ ভেদ করে ভেতরে ফেলা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে মঞ্চে উপস্থিত দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোনো সতর্কতা বা ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

অনুষ্ঠান মঞ্চে উপাধ্যক্ষসহ শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্র সংগঠনের নেতারা উপস্থিত থাকলেও এ ধরনের ঘটনায় তাদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হোস্টেলের ভেতরে লেজার লাইট না মারতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করা যেত বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।

এদিকে বিকেলে বৃষ্টিপাত এবং রাতে মাঠে জমে থাকা পানি উপেক্ষা করেই শত শত তরুণ গভীর রাত পর্যন্ত গান-বাজনা ও নাচে মেতে ওঠে।

জানা গেছে, সরকারি কলেজের অর্থায়নে এই আয়োজনের সুযোগ দেয়া হয় ছাত্রদলকে, যা নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্থ ও অবকাঠামো ব্যবহার করে এ ধরনের আয়োজন এবং তদারকির ঘাটতি নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

সামগ্রিক ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আয়োজনের অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।