চৌহালীতে আতা ফলের প্রলোভনে শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

গত বৃহস্পতিবার সকালে আতা ফল দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে গোয়াল ঘরে নির্যাতন করে কাউসার ও রহিম। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে অস্বাভাবিক আচরণ করলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। বর্তমানে সে টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মুহাম্মদ আবদুল হাই, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)

Location :

Chauhali
চৌহালী থানা
চৌহালী থানা |সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় আতা ফল দেয়ার কথা বলে এক শিশুকে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

আজ শনিবার ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়। এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার রেহাইপুখুরিয়া পশ্চিম পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ভয়ে শিশুর পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে মুখ খুলতে পারেনি।

অভিযুক্তরা হলেন, রেহাইপুখুরিয়া পশ্চিম পাড়ার গরুর ব্যবসায়ী কালাম হোসেনের ছেলে কাউসার হোসেন (১০) ও ফজলুল হকের ছেলে রহিম রেজা (১২)।

ভিকটিমের পরিবার জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে আতা ফল দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে গোয়াল ঘরে নির্যাতন করে কাউসার ও রহিম। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে অস্বাভাবিক আচরণ করলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। বর্তমানে সে টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ বিষয়ে শিশুর দাদি জানান, আমার নাতনি যখন বাড়িতে আসে তখন তাকে অস্বাভাবিক লাগে। পরে জিজ্ঞেস করলে আমার পুত্রবধূর কাছে কাউসার ও রহিম তার সাথে কি করছে সব খুলে বলে। পরে আমার নাতনির শরীরে রক্ত দেখে দ্রুত লম্পটদের মাকে জানাই।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনা স্থানীয় মাহমুদুল হাসানকে (মামুদ আলী মেম্বার) জানালে তিনি দ্রুত চিকিৎসা নিতে বলেন এবং বিষয়টি মিমাংসা করে দিতে চান। বর্তমানে ওই শিশু টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দেয়াসহ প্রভাব বিস্তার করছে একটি চক্র। এ কারণে তিনদিন পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আলোচনায় আসে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ধামাচাপার চেষ্টাকারীসহ দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয় সমাজপতি মাহমুদুল হাসান মেম্বার জানান, এটা জেনেছি, মিমাংসা করে নেবার পরামর্শ দিয়েছি। এজন্য অনৈতিক সুবিধা গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে, এমন প্রশ্ন করতেই নৌকার মধ্যে আছি, শোনা যাচ্ছে না বলে ফোন কেটে দেন।

চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।