ভূরুঙ্গামারীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসে অভিযুক্তদের পুনর্বহালে প্রতিবাদে মানববন্ধন

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কলেজ মোড়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Bhurungamari
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা |নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পুনর্বহালের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কলেজ মোড়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

উল্লেখ্য, ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে তৎকালীন প্রধান শিক্ষকসহ সাত শিক্ষক-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অভিযুক্তদের খালাস দেয় আদালত। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করে।

আদালতের রায়ের পর সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক ও কর্মচারীরা ওই নির্দেশের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ে যোগদান করতে গেলে উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরি হয়।

এরপর অভিযুক্তদের পুনর্বহালের প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা অংশ নেন।

মানববন্ধনে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম আকন্দ, যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখারুল ইসলাম শ্যামা, সুধী সমাজের প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন ব্যাপারী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম শান্ত, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশীদ, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ইয়াছিন, শিক্ষার্থী আদিবা আহসান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইয়াকুব আলী শ্রাবণ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অনিয়মের সাথে জড়িতদের পুনরায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা হলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

পরে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত শিক্ষক ও কর্মচারীরা যাতে ভবিষ্যতে কোনোভাবে বিদ্যালয়ে যোগদান করতে না পারে সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।