রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার

‘নির্বাচন ও গণভোট একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।’

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন |নয়া দিগন্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভাগীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে নেয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, ‘নির্বাচন ও গণভোট একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজশাহী বিভাগে রয়েছে আটটি জেলা, ৬৭টি উপজেলা, একটি সিটি করপোরেশন, ৬২টি পৌরসভা ও ৫৬৫টি ইউনিয়ন। প্রায় ১৮ হাজার ১৫৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বসবাস করছেন প্রায় দুই কোটি তিন লাখ মানুষ। চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা এক কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন। মোট ভোটকেন্দ্র পাঁচ হাজার ২৮৭টি; এর মধ্যে এক হাজার ৭৬৭টি কেন্দ্র চিহ্নিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে এবং সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বিভাগে ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। মোট এক লাখ চার হাজার ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ১০ হাজার, বিজিবি চার হাজার ১২৩, রেঞ্জ পুলিশ ১৩ হাজার ৭৯৬, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) দুই হাজার ৪০৫, র‍্যাব এক হাজার ছয়জন ও আনসার ৭২ হাজার ৭৩৬ জন।

প্রতি আসনে গড়ে দুই হাজার ৬৬৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাঁচ হাজার ২৬৬টি কেন্দ্রে সিসিটিভি ও দুই হাজার ৩১৮টি বডি ওর্ন ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোরদার অভিযান চালানো হয়েছে। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ ৭৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৩৩টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। একই সময়ে বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে চার হাজার ৫৯৪টি। নির্বাচনকালীন গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে কোর কমিটি সক্রিয় রয়েছে এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জয়েন্ট অপারেশন সেল চালু হয়েছে, যা ভোট-পরবর্তী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি মিডিয়া সেল থেকে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, সকলের সহযোগিতায় রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।