বগুড়ায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে স্টেশন রোডে অবৈধভাবে দেশীয় ফলের পাইকারি ব্যবসা পরিচালনার প্রতিবাদে বগুড়া ফল ব্যবসায়ী সমিতি থেকে পদত্যাগ করেছেন ৫৪ জন আড়তদার, ফল ব্যবসায়ী।
রোববার (৩ মে) শহরের তিনমাথা রেহেনা ফল মণ্ডিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা পদত্যাগের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
এর আগে, শনিবার এক জরুরি সভায় ৫৪ জন আড়তদার সমিতি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আমদানি-রফতানি কারক ও দেশী ফল আড়ত মালিক সমবায় লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম আরফান।
লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম আরফান বলেন, গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার সময় স্টেশন রোডের ময়লা ও আবর্জনার কথা উল্লেখ করেন। এসব ময়লা স্টেশন রোডের আড়তদারদের অবৈধ ফল ব্যবসার ফলে উৎপন্ন হয়।
তিনি বলেন, স্টেশন রোডকে যানজট ও ময়লা-আবর্জনা মুক্ত করতে ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি আমরা সব আড়ত মালিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বগুড়া ফল ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিই। পরে ওই বছরের ২৩ মে জেলা প্রশাসক এক চিঠিতে শহরের তিনমাথা রেলগেটের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের মহাসড়ক সংলগ্ন জায়গাকে ফলের আড়ত হিসেবে নির্ধারণ করেন। শুধুমাত্র ওই স্থানেই দেশীয় ফল-মূল বিক্রয়, বিপনন ও গুদামজাত করার অনুমতি দেয়া হয়। একই সাথে বগুড়া শহরে যানজট নিরসন ও আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে স্টেশন রোডের ফলের সব
আড়ত বন্ধ করার নির্দেশনা দেন।
তিনি আরো বলেন, এরপর জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বগুড়া শহরের তীব্র যানজট নিরসনে স্টেশন রোডের ফলের পাইকারি বাজার তিনমাথা রেলগেটের নির্ধারিত আড়তে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপার, বগুড়া পৌরসভার তৎকালীন মেয়র ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে, সেই সময় তৎকালীন আওয়ামী সরকারের দোসরদের বাধায় ম্যাজিস্ট্রেট উচ্ছেদ অভিযান চালাতে ব্যর্থ হন।
শফিকুল ইসলাম আরফান বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর আমরা সব ব্যবসায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনমাথা রেলগেটে রেহেনা ফলমণ্ডি আড়তদারদের অর্থায়নে নির্মিত মার্কেটে চলে আসি। এরপর থেকে এখানে সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে আমরা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। পরে বগুড়া ফল ব্যবসায়ী সমিতির কতিপয় সদস্য জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাতমাথা স্টেশন রোডে দেশীয় ফল মজুদ ও বিক্রি শুরু করে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এঘটনার প্রতিবাদে, শনিবার এক জরুরি সভায় আমরা আড়তদাররা একত্রিত হয়ে ৫৪ জন সদস্য ফল ব্যবসায়ী সমিতি হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, শহরের যানজট হোক এটা আমরা চাই না। আমরা স্টেশন রোড হতে পাইকারি ফলের বাজার তিনমাথায় নিয়ে আসার পর বগুড়া শহরের ৩০ শতাংশ যানজট নিরসন হয়েছে বলে মনে করি।
পদত্যাগকারী আড়তদাররা হলেন, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম আরফান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন আহামেদ, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজমল হোসেন, সাবেক প্রচার সম্পাদক আইনুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল বারী, সাবেক ক্রিড়া সম্পাদক লাইজু, সাবেক ধর্মীয় সম্পাদক হাফেজ আজমিরসহ ৫৪ জন।



