লালমোহনে চাল না পেয়ে জেলেদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

সরকার মার্চ ও এপ্রিল দুই মাস অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ধরা ও নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় জেলেরা এখন বেকার হয়ে বসে আছেন। তারা ধার-দেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু মার্চ পেরিয়ে এপ্রিলের ১০ তারিখ চলে গেলেও জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল দেয়া হয়নি।

লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা

Location :

Lalmohan
চাল না পাওয়া জেলেরা
চাল না পাওয়া জেলেরা |নয়া দিগন্ত

ভোলার লালমোহনে চাল না পেয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন জেলেরা।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে লালমোহন ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের পাটোওয়ারীর হাট সংলগ্ন কোবখালী মাছঘাট এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

জেলে পুনর্বাসনের চাল না পাওয়ায় ওই ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী ও জেলে মো: সালাউদ্দিন দালাল, মো: ইলিয়াস দালাল, রফিক মাঝি, ফিরোজ হাওলাদার, আব্দুর রসিদ মাঝি, সিরাজ, লোকমানসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়।

এসময় জেলেরা জানায়, প্রকৃত জেলে হয়েও সরকারকর্তৃক বরাদ্দকৃত পুনর্বাসনের চাল তাদের ভাগ্যে জোটেনি। কিন্তু জেলে না হয়েও চাল পান এমন অনেকে রয়েছে। সরকার মার্চ ও এপ্রিল দুই মাস অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ধরা ও নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় জেলেরা এখন বেকার হয়ে বসে আছেন। তারা ধার-দেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু মার্চ পেরিয়ে এপ্রিলের ১০ তারিখ চলে গেলেও জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল দেয়া হয়নি।

জানা গেছে, জেলেদের জন্য ৪০ কেজি করে চারবারে ১৬০ কেজি চাল বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে ৮০ কেজি ইতোমধ্যে বরাদ্দ হয়ে গেছে। উপজেলায় দুইটি ইউনিয়নে এই চাল বিতরণ হলেও বাকি সাত ইউনিয়নে এখনো চাল বিতরণ করতে পারেনি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাদের সাথে চেয়ারম্যানদের তালিকা নিয়ে সমন্বয় না হওয়ায় এখনো জেলেরা চালপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

জেলেরা বলেন, সরকারের সকল নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময় মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন, কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত পুনর্বাসনের চাল সময় মতো পান না। তাদের দাবি, তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছি সরকারের দেয়া চাল থেকে। এতে আড়ৎদারের দাদন ও এনজিওর কিস্তির চাপ মাথায় নিয়ে পরিবার-পরিজনসহ দুঃখে-কষ্টে জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। এই অবস্থায় সরকারের দেয়া সহায়তা না পেলে তাদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

কোবখালী ঘাটের ইউসুফ মাঝি, আইয়ুব মাঝি, কাঞ্চন মাঝি, নুরে আলম মাঝি, আবু তাহের মাঝি, মনির মাঝি বলেন, অবরোধের পরেও আমরা নদীতে মাছ ধরতে গেলে উত্তর থেকে পুলিশ বা কোস্টগার্ডের লোকজন এসে বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের নৌকা, জাল এবং অনেক সময় আমাদের ধরে নিয়ে যায়। তাদের কাছ থেকে ছাড়া পেতে বহু হয়রানির স্বীকার হতে হয়।

এ বিষয়ে ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘তালিকার কাজ সম্পন্ন না হওয়াতে এখনো চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। তালিকা প্রণয়নের জন্য বিএনপির কয়েকজন নেতা দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের সাথে সমন্বয় করে তালিকার কাজ শেষ হলে চাল দেয়া হবে।