পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের একটি পূর্ণাঙ্গ জোনাল অফিস না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার গ্রাহক। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে স্থানীয়রা জোনাল অফিসের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বর্তমানে খুঁটিনাটি সমস্যার সমাধান পেতেও গ্রাহকদের ছুটতে হচ্ছে পিরোজপুর সদর জোনাল অফিসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউখালী উপজেলায় ৩০ হাজারের অধিক বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছেন। কিন্তু এখানে কোনো জোনাল অফিস না থাকায় নতুন সংযোগ নেয়া, মিটারের নাম পরিবর্তন, বিল সংশোধন বা বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের জন্য সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানি পোহাতে হচ্ছে।
সাধারণ একটি কাজের জন্য ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পিরোজপুরের হুলারহাট জোনাল অফিসে যেতে হয়। এতে গ্রাহকদের সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যাতায়াত খরচও কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।
তাছাড়া এলাকায় বড় ধরনের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বা ট্রান্সফর্মার বিকল হলে জোনাল অফিস থেকে টেকনিশিয়ান বা সরঞ্জাম আসতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অন্ধকারে অতিবাহিত করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন।
গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও ন্যায্য সেবা পাচ্ছি না। সামান্য ভুলের জন্য আমাদের পিরোজপুরের জোনাল অফিসে দৌড়াতে হয়। অনেক সময় দালালদের খপ্পরে পড়তে হয়। গ্রাম থেকে জেলা জোনাল অফিসে গেলে গ্রাহকদের মূল্যায়ন কম করে, গ্রাহকদের কথা সহজে আমলে নেয় না। কাউখালীতে একটি জোনাল অফিস হলে আমাদের এ ভোগান্তি চিরতরে শেষ হতো।
ব্যবসায়ীরা জানায়, লোডশেডিং বা যান্ত্রিক বিভ্রাটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসে। স্থানীয়ভাবে দক্ষ জনবল ও পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব থাকায় জরুরি সেবা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
কাউখালীর জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি—গ্রাহক সেবা দ্রুত নিশ্চিত করতে এবং ভোগান্তি কমাতে অবিলম্বে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ জোনাল অফিস স্থাপন করা হোক। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন হাজার হাজার গ্রাহক।



