পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘সরকার দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই অপারেশন ক্লিনহার্টের মতো একটি অভিযান চালাবে। প্রকৃতপক্ষে যারা অন্যায় করছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। সরকার এই ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেবে না। মাদক সমাজের প্রধান সমস্যা। মাদকাসক্ত ও মাদককারবারি কারা, এটা সবার জানা। অভিযান চালিয়ে তাদের ধরা দরকার। এছাড়া কিশোরগ্যাং প্রশ্নেও সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। এরসাথে যারা জড়িত তাদেরকেও ধরতে হবে।’
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে ফেনী জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আবদুল আউয়াল মিন্টু শহরের ফুটপাতের হকার প্রসঙ্গে বলেন, ‘হকাররা চাঁদা ছাড়া বসে না, আগে চাঁদাবাজদের ধরতে হবে।’
জেলা প্রশাসক মনিরা হকের সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার চয়ন বড়য়ার সঞ্চালনায় সভায় পুলিশ সুপার মো: শফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা: রুবাইয়াত বিন করিম, সেনাবাহিনীর ক্যাম্প অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: আমানুল হক, ৪ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম জিল্লুর রহমান, এনএসআই যুগ্ম পরিচালক মো: হারুন মিঞা, আনসার কমান্ড্যান্ট মো: হেলাল উদ্দিন, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নাসরীন আক্তার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো: আবদুল হামিদ, পিপি মেজবাহ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মনিরা হক রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপার মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত সময়ের তুলনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো রয়েছে। ২০২৪-এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আমরা এক অস্থির পরিস্থিতি অতিক্রম করে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে।’
ঈদকে সামনে রেখে বিশেষ পুলিশিংসহ পুলিশের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নিরাপদ ফেনী গঠনে পুলিশ কাজ করছে।’
এর আগে, আবদুল আউয়াল মিন্টু সকালে সার্কিট হাউজে আসলে তাকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার অভ্যর্থনা জানান। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ উন্নয়ন ও বনায়নে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘দূষণের ফলে আমাদের দেশে মানুষের গড় আয়ু দুই থেকে তিন বছর কমে যাচ্ছে। সরকার যাবতীয় দূষণ রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ১৮০ দিনের একটি বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।’
অতীত সময়ে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে লুটপাট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অতীতে কী হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে এতটুকু বলতে পারি, আমাদের সময়ে কোনো অনিয়ম দুর্নীতির সুযোগ নেই।’
বিকেলে সোনাগাজীতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় ও পরে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে পরিবেশ মন্ত্রী যোগদান করবেন।



