বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে দখলমুক্ত করা হয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে খনন করা কান্দাখালী খাল। ১৯৭৭ সালে উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেচুরিয়া আদর্শ গ্রামের এই খালটির খনন কাজ কোদাল দিয়ে নিজ হাতে উদ্বোধন করেছিলেন জিয়াউর রহমান।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানী আকনের তত্ত্বাবধানে গত সোমবার (৩০ মার্চ) থেকে টানা তিন দিনের অভিযানে খালটি দখলমুক্ত করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৭ সালে স্থানীয় সমাজসেবী এম আনোয়ারুল আজিম ভোলা চেচুরিয়া আদর্শ গ্রাম প্রকল্পের গোড়াপত্তন করেন। এই প্রকল্পের আওতায় তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে এনে মৃতপ্রায় কান্দাখালী খাল খননের কাজ শুরু করেন। খালটি খননের পর এই এলাকায় কৃষি বিপ্লব সঙ্ঘটিত হয়েছিল।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খালটির বিভিন্ন স্পট প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায় এবং ভরাট হয়ে যায়। সম্প্রতি শফিকুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে খালটি দখল করে মৎস্য প্রকল্প স্থাপনের অভিযোগ পেয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত শফিকুর রহমানকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এই অভিযানের পর আরো নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন প্রকল্পের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে খালটিকে দখলমুক্ত করতে টানা তিন দিন অভিযান চালানো হয়। পরে খালটির আরো একাধিক স্পট দখলমুক্ত করা হয়। যার কারণে খালটিতে পানি প্রবাহ বর্তমানে স্বাভাবিক হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন পরে হলেও খালটি দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসন প্রশংসিত হওয়ার দাবি রাখে। তবে আবারো যেন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি খাল দখল করতে না পারে সেদিকেও নজর রাখতে হবে। এই খালটিকে সুরক্ষিত রাখতে পারলে কৃষিখাতে পরিবর্তন সাধিত হবে এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার সমস্যা দূরীভূত হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানী আকন জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খননকৃত কান্দাখালী খাল টানা তিন দিন অভিযান পরিচালনা করে দখলমুক্ত করা হয়েছে। কেউ আবার দখলে নেয়ার দুঃসাহস দেখালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



