কালীগঞ্জে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা জোড়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। যা এখন নতুন ধানের গন্ধে মাতোয়ারা। তুমলিয়া ইউনিয়নের কৃষি জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় থাকায় এই এলাকায় পর্যায়ক্রমে বছরে তিনবার চাষাবাদ হয়ে থাকে।

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা

Location :

Gazipur
বোরো ধান মাড়াই
বোরো ধান মাড়াই |নয়া দিগন্ত

গাজীপুরের কালীগঞ্জে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। বর্তমানে কাঁচা ও আধাপাকা ধানের শীষ দুলছে বাতাসে। বোর মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা ধানের চারা রোপণ করায় কালীগঞ্জে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। ক্ষেত জুড়ে দুলছে আধা-পাকা সোনালী ধানের শীষ। সারা বছরের জমাটবাঁধা দুঃখ কষ্ট পেরিয়ে এখন ফসল ঘরে তোলার পালা। তাই কৃষকের মুখে হাসি ফুটে ওঠেছে। বাম্পার ফলনে পাকা সোনালি ধান গোলায় তোলার স্বপ্নে বিভোর কৃষকরা। বৈশাখের শুরুতেই ধান কাটার মৌসুম।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর এঅঞ্চলে, ব্রিধান-৮৯, ব্রিধান-৯২, ব্রিধান-১০০, ব্রিধান-১০১, ব্রিধান-১০২, ব্রিধান-১০৫, ব্রিধান-১০৮, লালতীর-৪ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। ব্রিধান-২৮ এর পরিবর্তে স্বল্প জীবনকালের ব্রিধান-৮৮, ব্রিধান-৯৬ চাষ করা হয়েছে। বোর উফশী জাতের জন্য ৮৪০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে জন প্রতি পাঁচ কেজি বীজ, ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিএপি সার এবং বোর হাইব্রীড দুই কেজি করে বীজ দেয়া হয়েছে। উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ২৮৭৫ হেক্টর ও উফশী জাত ৬৯৩৫ হেক্টর জমিতে বোর ধানের আবাদ করা হয়েছে।

উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা জোড়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। যা এখন নতুন ধানের গন্ধে মাতোয়ারা। তুমলিয়া ইউনিয়নের কৃষি জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় থাকায় এই এলাকায় পর্যায়ক্রমে বছরে তিনবার চাষাবাদ হয়ে থাকে। বন্যার পানি উঠায় অন্যান্য এলাকার জমি এক ফসলি হিসেবে পরিচিত। বৈশাখ মাসে ধান গোলায় উঠাতে পারলেই কৃষক পরিবারের আনন্দ।

পৌরসভার বড়নগর এলাকার কৃষক মো: রোমেল বলেন, ‘ডাঙ্গির বিলে ধান এখন আধাপাকা হয়ে আসছে। মৌসুমের শুরুতে এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় নেই কোনো উৎকণ্ঠা। সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ব্রাক-২ জাতের ধানের আবাদ করেছি। বিঘা প্রতি প্রায় ২২ মন ফলন হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় আগে থেকেই ধান কাটার প্রস্তুতি রয়েছে।’

তুমলিয়া ইউনিয়নের টিওরী গ্রামের কৃষক মো: আলী হোসেন খোকন বলেন, ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভিতরে ধানের চারা রোপন একটু দেরীতে হওয়ায় ধান কাটতেও কিছুটা দেরী হবে। ধানের শীষে মাত্র কেবল সোনালি রঙ ধরেছে। আগামী সপ্তাহে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। শস্য কর্তনের মাধ্যমে ব্রিধান-৯৬ প্রতি বিঘাতে প্রায় ২৫ মণ ফলন পাওয়া যাবে। বোরো ধান এলাকার খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসলিন মেহেদী প্রতিবেদককে বলেন, ‘এবার উপজেলায় ৯৮১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৮০৫ হেক্টর। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর বোর ধানের ফলন ভাল হয়েছে এবং ফলন নিয়ে কৃষকরা খুশি। আগাম জাতের ধানগুলো কৃষকরা কর্তন শুরু করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপজেলা শাখা সব সময়ই কৃষকদের প্রযুক্তি দিয়ে সহযোগীতা করে থাকে ও বালাইনাশক বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা (চালে) হাইব্রিড ৫.২ মেট্রিক টন এবং উফশী জাত ৪.১ মেট্রিক টন ধরা হয়েছে। শস্য কর্তনের মাধ্যমে ব্রিধান-৯৬ প্রতি বিঘাতে প্রায় ২৫ মণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। ফসলের ব্লাস্টার আক্রমন থেকে সুরক্ষা করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কিটনাশক ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’