সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সঙ্ঘটিত মিতা বেগম হত্যা মামলার পলাতক আসামি খাদিজা বেগমকে (২৩) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বুধবার (৩ জুন) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহীদুল ইসলাম সোহাগ।
এর আগে, মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার দুপুরে তাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতার খাদিজা বেগম দিরাই উপজেলার নতুন বাগবাড়ী এলাকার টিটু মিয়ার স্ত্রী।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত মিতা বেগম দিরাই উপজেলার বাগবাড়ি (কান্দাহাটি) এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ২৯ মে সন্ধ্যায় মিতার ফুপাত ভাই উজ্জ্বল মিয়া তার পাওনা সাড়ে সাত হাজার টাকা চাইতে গেলে অলি মিয়ার সাথে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা দিয়ে উজ্জ্বল মিয়াকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
উজ্জ্বল মিয়ার চিৎকার শুনে মিতা বেগম ও তার মা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর মিতার চিৎকার শুনে তার মা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, অভিযুক্তরা মিতা বেগমকে মারধর করে চুল ধরে টেনে ঘরের ভেতরে নেয়ার চেষ্টা করছে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত টিটু মিয়া হাতে থাকা গাছের ডাল দিয়ে মিতা বেগমের মাথার ডান পাশে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
মারধরের ফলে মিতা বেগম অজ্ঞান হয়ে গেলে অভিযুক্তরা তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্বজনরা মিতা বেগমকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ মে রাতে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের মা দিরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



