গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপস্বর্গ নিয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে এই হাসাপাতালে হামের উপস্বর্গ নিয়ে মৃত্যু হলো পাঁচ শিশুর। এছাড়াও এই বিভাগে হাম সনাক্ত হয়েছে ৬০ জনের।
রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টায় এই তথ্য জানান রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হাম চিকিৎসার বিশেষ কমিটির ফোকাল পার্সন ডাক্তার আনম তানভীর চৌধুরী।
তিনি জানান, শনিবার দিবাগত শেষে রাতে আইসোলেশন বিভাগের চিকিৎসাধীন মনি আক্তার নামের নয় মাস বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়। হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল শিশুটি। তার একটি অপারেশনও হয়েছিল। ঠাঁকুরগাঁও হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর ১০ মে শিশুটিকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শিশুটির বাবা মাহবুব হোসেন। বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদরে। এ নিয়ে মোট পাঁচ শিশুর এই হাসাপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মৃত্যু হল।
এর আগে এই হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মৃত্যু হয় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ১১ মাস বয়সী জুনাইদের। এরও আগে এর আগে লালমনিরহাটের হারহাটি গ্রামের রাকিব মিয়ার নয় মাসের ছেলে হাসান, কুড়িগ্রামের উলিপুরের সবুজ মিয়ার ২২ মাসের পুত্র জাকির। এই হাসপাতালে সর্ব প্রথম হামের উপস্বর্গ নিয়ে ১৮ এপ্রিল মৃত্যু হয় লালমনিরহাট সদরের রিয়াজুল ইসলামের সাত মাস বয়সী তানজিদ ইসলাম তামিমের।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, রংপুর বিভাগে ১লা জানুয়ারি থেকে গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত ১১৬ জনের পরীক্ষায় ৬০ জনের হাম ও ছয়জনের রোবেলা সনাক্ত হয়েছে।
রংপুর বিভাগে ১লা জানুয়ারি থেকে গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত ১১৬ জনের পরীক্ষায় ৬০ জনের হাম ও ছয়জনের রোবেলা সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৯, নীলফামালীতে ১০ জন, রংপরে পাঁচ, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে চারজন করে, দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, পঞ্চগড়ে দুইজন এবং লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা একজন করে শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।
অন্যদিকে শনিবার সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগের জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর বহিবিভাগ ও ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ২৩ জন। এনিয়ে এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১৩৮ জন। এরমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ৬৩ চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ভর্তি আছে ৭৫ জন।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা: ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘আমরা সতর্ক আছি। মাঠ কর্মীরাও কাজ করছেন। উপস্বর্গ দেখা মাত্রই হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে এই বিভাগে হামের পরিস্থিতি এখনও ভালো আছে। ভবিষ্যতে কি হবে সেটা বলা যাচ্ছে না।’



