ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ে কোনো দিন নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন দুই শিক্ষিকা—এমন গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের হালিউড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত দুই শিক্ষিকা হলেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রী কামরুন নাহার সুধা এবং তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীরা উপস্থিত থাকলেও এই দুই শিক্ষিকার কোনো উপস্থিতি নেই। অথচ হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর রয়েছে তাদের। শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা কোনো দিন এই দুই শিক্ষিকাকে বিদ্যালয়ে দেখেনি।
জানা যায়, ২০১৫ সালে বিদ্যালয়ের তৎকালীন সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক—যিনি বর্তমান প্রধান শিক্ষকের পিতা—নিজের দুই পুত্রবধূকে নিয়োগ দেন। শুরু থেকেই তারা অনুপস্থিত থাকলেও প্রশাসনিকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, এই অনিয়মের বিষয়ে মুখ খোলায় ২০১৯ সালে এ কে এম মোশাররফ হোসেন নামে এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ফলে ভয়ের কারণে অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ বিষয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করে বলেন, ‘দু’জন শিক্ষিকা মাঝে মধ্যে আসে।’ তবে একই সাথে তিনি স্বীকার করেন, ‘অভিযুক্তরা তার স্ত্রী ও ভাইয়ের স্ত্রী।’
এদিকে, অনুপস্থিত থেকেও তাদের বেতন-ভাতা চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করেছেন প্রধান শিক্ষক নিজেই—যা অনিয়মকে আরো স্পষ্ট করেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘এমন ঘটনা প্রমাণিত হলে তা গুরুতর অপরাধ।’



