বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জনগণের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে। আমরা জীবন দিতে পারি, কিন্তু দেশের মর্যাদা বিকিয়ে দেবো না।’
তিনি বলেন, ‘যাদের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আজ সংসদ ও গণভোট সম্ভব হয়েছে, তাদেরই এখন অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। তরুণদের আত্মত্যাগের ফলেই দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।’
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে রাজশাহীর মাদরাসা ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘সরকার এখন এসব আন্দোলনকারীকে শিশু সংগঠন বা গুপ্ত সংগঠন বলছে। কিন্তু জনগণের ৭০ শতাংশ রায়কে অস্বীকার করা যাবে না। এখনো সময় আছে—এসে বলুন, আমরা জনগণের রায় মেনে নিচ্ছি। তাহলে জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া কেউ ক্ষমতায় বসবে না। অথচ এখন ৪৭ জেলায় প্রশাসক বসানো হয়েছে। সিটি করপোরেশনেও প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা গুম কমিশন চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনারাও স্বৈরাচারী পথেই হাঁটছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভালো কাজ করলে আমরা পানির মতো তরল থাকব, আর অন্যায় করলে ইস্পাতের মতো কঠোর হব। আপনারা চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশের কথা বলেছিলেন, কিন্তু এখন সমঝোতার নামে চাঁদাবাজি বৈধ করা হচ্ছে। অনেকে এখন বলছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আজ চাঁদাবাজ দলে পরিণত হয়েছে।’
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সবখানে যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের বসানো হচ্ছে। সংসদে কথা বলতে না দিলে আমরা রাজপথে কথা বলব। ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। যারা হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে দাঁড়ায়, তারা কোনো হুমকিকে ভয় পায় না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী দেশকে সম্মান করি, কিন্তু আমাদের দিকে চোখ রাঙাবেন না। আমাদের ঘুম হারাম করলে আমরাও আপনাদের শান্তিতে থাকতে দেবো না। বাংলাদেশের পদ্মা ও তিস্তার বিশাল অংশ আজ মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। নদীকে তার যৌবন ফিরিয়ে দিতে হবে।’
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও রাজশাহী মহানগরী সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল ও রাজশাহী জেলা সেক্রেটারি গোলাম মুর্তজার যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) অলি আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল কাইউম সোবহানী, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক সিরাজুল হক, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান, জাগপার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রধান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, এনসিপির নেত্রী মনিরা শারমিনসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন জেলার আমির, ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় অন্য নেতৃবৃন্দ।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) অলি আহমেদ (বীর বিক্রম) বলেন, ‘বাংলাদেশকে অশান্ত করার ব্যাপারে ভারত এখন নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় কাদের সিদ্দিকীসহ আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী ভারতে আশ্রয় নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত বর্ডার অস্থিতিশীল করেছিল। এটাকে ঠিক করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী খুব ভালো লোক ছিলেন, ভদ্র লোক ছিলেন। উনি এ সমস্যা নিজেই সমাধান করেছিলেন। কিন্তু এখন ভালো লোক, ভদ্রলোক ভারতের ক্ষমতায় নেই।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশী দালালদের কারণে আমরা গত ১৯ বছর অনেক কষ্ট পেয়েছি। এই দালালদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের হাত-পা ভেঙে দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখানে দেখতে হবে শুভেন্দুর কোনো ফলোয়ার আছে কি-না। শুভেন্দু ক্ষমতায় আসার পরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হুমকি দিচ্ছে যুদ্ধ ঘোষণা করব, বাংলাদেশ দখল করে নেব। এটা তোমার বাপের দেশ তুমি দখল করে নিবা? আর আমরা যদি বলি আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, সেভেন সিস্টার্স সব দখল করে নেব, তখন কি বলবা? আমরা তো সেটা বলছি না। আমরা বলি আমাদের শান্তিতে থাকতে দাও। তুমি তোমার ঘরে শান্তিতে থাকো। তোমার ব্যাপারে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করব না, এটা তোমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু তোমরা প্রতিনিয়ত আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছ।’
দেশের নানা সঙ্কটের কথা তুলে ধরে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন বিদেশী বিনিয়োগ বন্ধ। যে সমস্ত বড় বড় প্রতিষ্ঠান আছে, তারাও নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে। তাহলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা কোথায় যাবে? দেশে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা। জনগণ দুঃসহ জীবনযাপন করছে। পত্রিকা খুললেই দেখবেন প্রতিনিয়ত হত্যাকাণ্ড ঘটছে। মানুষের মনে যখন অশান্তি হয়, মানুষ যখন সমস্যায় জর্জরিত হয়, সে তখন আর ডান-বাম দেখে না।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে, তিনি বেকার সমস্যা কিভাবে সমাধান করবেন, প্রতিবেশী ভারতকে কিভাবে সামাল দেবেন। উনার দলের লোকজন যে চাঁদাবাজি করছে, তার কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। এদের তালিকা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। উনাকে চিন্তা করতে হবে আমরা কোনো সমস্যা করছি না। গত ৫০ বছরে আমরা যে সমস্ত ভুলভ্রান্তিগুলো সংবিধানে, প্রশাসনে দেখেছি সেগুলো ঠিক করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি।’
কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, ‘জনগণ আজ দুঃসহ জীবনযাপন করছে। প্রতিদিন হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ হচ্ছে। ভারত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে কাজ করছে। ভারতে মুসলমানদের নামাজ পড়তে দেয়া হচ্ছে না, মসজিদ ভাঙা হচ্ছে। আমরা কারো ধর্মে হস্তক্ষেপ করি না, কিন্তু আমাদের প্রতিও হুমকি বরদাশত করা হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন দলীয়করণের মাধ্যমে অযোগ্য লোকদের বিভিন্ন পদে বসানো হচ্ছে। আমরা কোনো দলীয় নেতা বা মন্ত্রী চাইনি; আমরা চেয়েছি সংস্কার। দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভয়াবহ। বিদেশের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজেদের উৎপাদন বাড়াতে হবে। আপনারা যাদের মন্ত্রী বানিয়েছেন তাদের অনেকেরই দেশ চালানোর যোগ্যতা নেই। তারা জনগণের নয়, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। দেশের সমস্যা সমাধানে বিরোধী দলকে সাথে নিয়ে সংস্কার করতে হবে।’
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্য ততটুকুই গ্রহণযোগ্য যতটুকু কোরআন-হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যতদিন জনগণের রায় বাস্তবায়িত না হবে, ততদিন আন্দোলন চলবে। সরকার ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েও জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে পড়েছে। তাই জনগণের রায়কে সম্মান জানাতেই হবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার সাড়ে চার কোটি মানুষের রায়কে অস্বীকার করছে। জনগণের রায় মানা না হলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।’
সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও গণভোটের প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। অথচ এখন বলা হচ্ছে জনগণ গণভোট বোঝে না। বিএনপি নেতারা পাগল হতে পারেন, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ পাগল নয়। তারা বুঝেশুনেই ভোট দিয়েছেন। তাই দ্রুত জনগণের রায় মেনে নিতে হবে।’
খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির অধ্যাপক সিরাজুল হক বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যেই ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অস্বীকার করেছে। বাংলাদেশ কারো ক্রীতদাস নয়। জুলাই আন্দোলনের মূলমন্ত্র ছিল—‘মেধা, মেধা’। অথচ এখন সর্বত্র দলীয়করণ চলছে এবং মেধার পরিবর্তে কোটাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।’
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইউম সুবহানী বলেন, ‘জুলাই সনদ অস্বীকার করা বিএনপির সবচেয়ে বড় আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ১১ দলীয় ঐক্যের উচিত এই রায়ের বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামা।’
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন না হলে আজ অনেকে দেশে ফিরতেই পারতেন না। মনে রাখবেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিয়েছেন। জনগণের সাথে প্রতারণা করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। দেশের সর্বত্র চাঁদাবাজি চলছে। আমরা পদ্মা নদীর ন্যায্য হিস্যা চাই এবং সরকারকে ভারতের কাছ থেকে তা আদায় করতে হবে।’
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিয়েছি, কিন্তু সরকার এখন জনগণের রায় নিয়ে গড়িমসি করছে।’
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি যে আদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে, সেই একই সাংবিধানিক ভিত্তিতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন বৈধ হলে গণভোট কেন অবৈধ হবে? বিএনপির সবচেয়ে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হলো দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অস্বীকার করা। জনগণ এর দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।’
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন বলেন, ‘জনগণ এখন এই মুনাফিকদের চিনে ফেলেছে।’
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মানুষের চাওয়া ও দেশের স্বার্থ বাস্তবায়ন করুন। আমরা আপনাদের ভুয়া বলতে চাই না।’
এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমরা ভেবেছিলাম ক্ষমতায় যারা আসবে তারা শিক্ষা নেবে। কিন্তু বিএনপি সরকার তিন মাস না যেতেই অতীত ভুলে গেছে। মানুষ তারেক রহমানকে দেখে নয়, জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব দেখে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। অথচ ক্ষমতায় এসেই তারা ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে উপহাস করছে।’
তিনি বলেন, ‘সীমান্তে প্রতিদিন মানুষ হত্যার ঘটনা আবার বাড়ছে। দেশে নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। বিএনপি কি শুধু বিএনপির সরকার, নাকি পুরো বাংলাদেশের সরকার? আমরা জাতীয় নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি। কিন্তু আমাদের অধিকার কেড়ে নিতে চাইলে আমরা ঘরে বসে থাকব না।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে—এজন্য ধন্যবাদ। কিন্তু নদীতে পানি না থাকলে খাল খনন করে কী লাভ? আমরা দ্রুত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ের সম্মান চাই।’
জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রধান বলেন, ‘মওলানা ভাসানী ফারাক্কা ইস্যুতে এখানেই সমাবেশ করেছিলেন। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে পদ্মায় পর্যাপ্ত পানি থাকবে। পদ্মা শুকিয়ে গেলে সরকারও টিকে থাকতে পারবে না। ভারতের সাথে গোপন সমঝোতা বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।’
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘আমাদের সামনে জীবন দিয়ে আবু সাঈদ ভাই বলে গেছেন—দেশকে রক্ষা করতে হলে রক্ত দিতে হবে। আমরা এখানে চাঁদাবাজি করতে আসিনি। আমরা এসেছি ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের অধিকার রক্ষার জন্য। অনেক ভাই আজ পঙ্গু হয়ে ঘরে বসে আছেন। তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেয়া হবে না।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমাদের ভোট চুরি করা হয়েছে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা নীরব ছিলাম। তারেক রহমানকে বলতে চাই—আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে বাধ্য করবেন না। জুলাই সনদ নিয়ে তামাশা করবেন না। জনগণের রায় নিয়ে গড়িমসি করলে আপনাদের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতো হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। সীমান্তে প্রতিনিয়ত হত্যাকাণ্ড বাড়ছে। এমন সম্পর্ক আমাদের প্রয়োজন নেই। ভারতকে আমরা ভয় করি না। পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়েও তারা টালবাহানা করছে। অন্যদিকে সরকার তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট নিয়ে জনগণের সাথে তামাশা করছে। অবিলম্বে এসব সঙ্কট নিরসন করে জনগণের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।’
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটের আগে যারা জুলাই সনদের পক্ষে ছিল, সরকার গঠনের পর তারাই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যেকোনো মূল্যে এ দেশের মানুষ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরবে।’
জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরী আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী বলেন, ‘ভোট নেয়ার সময় জনগণের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করলেও ক্ষমতায় এসে তাদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। আমরা জনগণের রায় বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।’



