রাজাপুরে ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতিকে কোপানোর মামলার ৬ দিন, গ্রেফতার হয়নি কোনো আসামি

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, আসামিরা পলাতক থাকায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেননি। তবে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

Location :

Jhalokati
মো: ফেরদৌস রিপন
মো: ফেরদৌস রিপন |ছবি : নয়া দিগন্ত

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি মো: ফেরদৌস রিপনকে (৩০) কুপিয়ে জখমের মামলা দায়েরের ছয় দিন অতিবাহিত হলেও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গত ২৪ মার্চের ঘটনায় ৩০ মার্চ রিপনের মা ঝর্না বেগম (৫৫) রাজাপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং আরো অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বাদি উল্লেখ করেন, গত ১১ মার্চ অটোরিকশার ব্যাটারি এবং ১৭ মার্চ বেকু মেশিনের ব্যাটারি চুরি হয়ে যায়। চোর শনাক্ত হওয়ায় তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা ফেরত দেবার কথা বলে। সেই চোরাই ব্যাটারি উদ্ধারে শুক্তাগড় ইউনিয়নের প্যানেল (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যানের নির্দেশে ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি রিপনসহ আরো কয়েকজন সাকরাইল (বলারজোড়) যায়। চোর চক্রটির পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রিপন সেখানে পৌঁছলেই মাহমুদ হাওলাদার, শহিদ খাঁন, রাজু, চয়ন হাওলাদার, লিলি বেগম, রুম্পা হাওলাদার ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা করেন। এলোপাথারি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। আহত ছাত্রদল সভাপতি বর্তমানে ঢাকা পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

বাদী ঝর্না বেগম বলেন, আমার ছেলেকে পুর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা করতে বিলম্ব হলেও গত ৩০ মার্চ রাজাপুর থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং আরো ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের ছয় দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়েও চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, আসামিরা পলাতক থাকায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেননি। তবে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।