বজ্রপাতে গাইবান্ধায় ৫ জনসহ সাত জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু

বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় ওই চারজন বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বজ্রপাতে সারাদেশে ১৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে সারাদেশে ১৪ জনের মৃত্যু |প্রতীকী ছবি

বজ্রপাতে গাইবান্ধায় পাঁচজনসহ সারাদেশে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল, দুপুর ও বিকেলে গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, নাটোর ও পঞ্চগড় জেলায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে গাইবান্ধার তিন উপজেলায় পাঁচজন, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরের পৃথক দুই উপজেলায় দু’জন করে চারজন, ঠাকুরগাঁওয়ে দু’জন এবং বগুড়া, পঞ্চগড় ও নাটোর জেলায় একজন করে তিনজন রয়েছে।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন :

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানায়—
বজ্রপাতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিনজন, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। এছাড়া একটি গরুও মারা গেছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করছেন।

নিহতরা হলেন— সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০)। এ ঘটনায় আহত শামীম (১৮) একই গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় ওই চারজন বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। একই সময় পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। অন্যদিকে আহত শামীমকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

একই গ্রামের তিনজনের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিরা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে ছুটে যান।

এছাড়া গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে নম্বার আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে বাড়ির পাশেই এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নম্বার আলী উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের মরহুম কছির উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে বৃষ্টির সময় বাড়ির পাশেই ছাগল দেখতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতের শিকার হন নম্বার আলী। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিরুল আলম স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া ফুলছড়ি উপজেলায় বজ্রপাতে মানিক মিয়া (৪৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দেলুয়াবাড়ি চরের নদীর ঘাট থেকে ঘোড়ার গাড়িতে করে ভুট্টা নিয়ে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ সময় একই উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে বজ্রপাতে আলী আকবর (৭০) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ফুলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামালপুর প্রতিনিধি জানায়—
জামালপুরের মেলান্দহ ও সদর উপজেলায় বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

জামালপুরের মেলান্দহে বজ্রপাতে মর্জিনা (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শেফালী (২৮) নামে আরো একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌরসভার কড়ইচড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মর্জিনা ওই গ্রামের রাজীব মিয়ার স্ত্রী বলে জানা গেছে। তার তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির সময় খোলা রান্নাঘরে রান্নার কাজ করছিলেন মর্জিনা। এ সময় বজ্রপাতে তিনি আক্রান্ত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, একই এলাকার হারুনের স্ত্রী শেফালী বৃষ্টির সময় রাস্তা থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

অপরদিকে জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চর যথার্থপুর এলাকায় বজ্রপাতে হাসমত আলী (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত হাসমত আলী মরহুম হবিবর আলীর ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে বৃষ্টির শুরু হলে মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় পথে বজ্রপাতে আহত হন হাসমত আলী ও তার চাচাত ভাই আনোয়ার হোসেন। পরে তাদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসমত আলীকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তবে আনোয়ার হোসেন চিকিৎসাধীন আছেন। বজ্রপাতে হাসমত আলীর একটি গরুও মারা যায়।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানায়—
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে হাসান শেখ (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হাসান শেখ ওই এলাকার আব্দুল হালিম শেখের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে পরিবারের সদস্যদের সাথে নিজ জমি থেকে কাটা ধান মাথায় করে বাড়িতে নেয়ার কাজ করছিলেন হাসান। হঠাৎ আকাশে ঘন মেঘ জমে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। দুর্যোগপূর্ণ এ আবহাওয়ার মধ্যে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই হাসানের মৃত্যু হয়।

ধানগড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে মল্লিকচান গ্রামের এক তরুণের এমন অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি বৈরী আবহাওয়ার সময় সকলকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।

রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আহসানুজ্জামান জানান, বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এছাড়া সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বজ্রপাতে আব্দুল হামিদ (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল হামিদ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা রজব আলী জানান, বিকেলে বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করছিলেন আব্দুল হামিদ। আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রতিবেশীরা মাঠ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাহ আলম মোল্লা বলেন, ‘বজ্রপাতে কৃষক মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।’

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানায়—
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে পৃথক দুই জায়গায় দু’জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

নিহত দু’জন হলেন— নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।

জানা গেছে, রোববার দুপুর পৌনে ২টার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন লাবণী আক্তার। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, একইদিন দুপুরে বৈরামপুর এলাকায় জমির ফসল দেখতে যান ইলিয়াস আলী। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। আকস্মিক বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতে উপজেলায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

বগুড়া প্রতিনিধি জানায়—
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় জমি থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন ওই গ্রামের মো: আবদুল করিমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এলাকায় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বাড়ির পাশের জমিতে থাকা নিজের ছাগল আনতে যান সুমন। জমিতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাবতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: আবু মুসা জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

নাটোর প্রতিনিধি জানায়—
নাটোরের সিংড়ায় ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে সম্রাট (২৬) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের ঠেঙ্গাপাকুরিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া সম্রাট সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে।

এ সময় তার সাথে থাকা একই গ্রামের আলম হোসেন (৩৫) ও আফজাল হোসেনর (৪০) নামের আরো দুই ধান কাটা শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে একই সময়ে উপজেলা কৈগ্রাম মাঠে ধান আনতে গিয়ে ফিরোজ হোসেন (২৫) নামের এক কৃষক আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঠেঙ্গাপাকুরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আউয়ালের বাড়িতে ধান কাটার উদ্দেশ্যে ২০ শ্রমিক আসেন। মাঠে ধান কাটার সময় বিকেলে আকাশে মেঘ দেখে কাজের বিরতি দিয়ে তাদের নির্ধারিত টিনের ছাপড়া ঘরে ওঠেন শ্রমিকরা। হঠাৎ বজ্রপাত টিনের ছাপড়ায় পড়লে শ্রমিক সম্রাটসহ তারে সাথে থাকা আরো দু’জন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সম্রাটকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিংড়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও পৃথক স্থানে আরো তিনজন আহত হয়ে নাটোর সদর ও সিংড়া হাসাপাতালে ভর্তি হয়েছে খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানায়—
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বজ্রপাতে সোহরাওয়ার্দী (২২) নামে এক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো দুই শ্রমিক।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামের একটি চা বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সোহরাওয়ার্দী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামের আবু সামাদের ছেলে।

আহত দু’জন হলেন— একই এলাকার মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩)। বর্তমানে তারা পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ধামোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের মো. দুলাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, সকালে সোহরাওয়ার্দীসহ কয়েকজন শ্রমিক চা-পাতা তুলতে বাগানে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশে ঘন কালো মেঘ জমে এবং হালকা বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হয়। একপর্যায়ে চা-পাতা তুলে বাড়ি ফেরার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই সোহরাওয়ার্দীর ‍মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় তার সামান্য দূরে থাকা অপর দুই শ্রমিক আহত হন।