ভোলায় ঈদে হাট কাঁপাবে ‘কালাচান’ ও ‘সাদাচান’

গরু দু’টির একটির ওজন প্রায় ২২ মণ, অন্যটির ১৮ মণ। তবে শুধু আকারেই নয়, ভালোবাসা আর যত্নেও গরু দু’টি এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

শাহাদাত হোসেন শাহীন, ভোলা

Location :

Bhola
দুলাল বেপারির কালাচান ও সাদাচান
দুলাল বেপারির কালাচান ও সাদাচান |নয়া দিগন্ত

ভোলার এক প্রান্তিক গ্রামের ছোট্ট খামারে গড়ে উঠেছে মানুষ আর পশুর এক অন্যরকম মায়ার গল্প। আদর করে নিজের পোষা গরুর নাম রেখেছেন ‘কালাচান’ ও ‘সাদাচান’।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চর মনসা গ্রামের খামারি দুলাল বেপারির খামারে এখন ভিড় করছেন স্থানীয় উৎসুক মানুষজন। কারণ, সেখানে রয়েছে বিশাল আকৃতির দু’টি গরু— ‘কালাচান’ ও ‘সাদাচান’।

একটির ওজন প্রায় ২২ মণ, অন্যটির ১৮ মণ। তবে শুধু আকারেই নয়, ভালোবাসা আর যত্নেও গরু দু’টি এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

খামারি দুলাল বেপারি জানান, প্রায় তিন বছর আগে স্থানীয় একটি খামার থেকে গরু দু’টির মাকে কিনেছিলেন তিনি। পরে জন্ম নেয় বাছুর দু’টি। তখন থেকেই শুরু হয় তাদের যত্নে বড় করে তোলার গল্প। সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময় ধরে লালন-পালন করেছেন তিনি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর মোটাতাজাকরণ নয়, শুধুই পরিচর্যা আর ভালোবাসায় আজকের এই বিশাল আকৃতি পেয়েছে কালাচান ও সাদাচান।

গরু দু’টির জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট খাবার ও সবুজ ঘাসের পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন দেয়া হয় আপেল কিংবা কমলা। এছাড়াও খাবারের তালিকায় রয়েছে মিষ্টি কুমড়া, আলু, গরুর ফিড, ভুট্টার ভূসি ও গমের ভূসি। যেন কোনো খামারের গরু নয়, পরিবারেরই আপন সদস্য।

দুলাল বেপারি বলেন, ‘গরু দুটোকে সন্তানের মতোই বড় করেছি। বিক্রি করার কথা ভাবলেও খারাপ লাগে। কিন্তু একজন খামারি হিসেবে বিক্রি তো করতেই হবে। তারপরও ন্যায্য দাম না পেলে বিক্রি করব না।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তে গরু দু’টির পরিচর্যায় ব্যস্ত পুরো পরিবার। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়েও সমানভাবে খামারের কাজ করছেন দুলাল বেপারি।

খামারির ছেলে মো: আমিন বলেন, ‘কালাচান আর সাদাচান আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে গেছে। এত বড় গরু হলেও আমাদের সাথে ছোট শিশুর মতো আচরণ করে। বিক্রি হয়ে যাবে ভাবলেই মন খারাপ হয়ে যায়।’

কালাচান ও সাদাচানকে একনজর দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, এমন বড় গরু এলাকায় খুব কমই দেখা যায়। দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ আসছেন এই দু’টি গরু দেখতে। অনেকেই খামারটি দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন গরু পালনে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো: রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘খামারি দুলাল বেপারি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু দু’টি লালন-পালন করেছেন। সঠিক পরিচর্যা আর ধৈর্যের ফলেই এমন সফলতা এসেছে।’

ঈদ সামনে রেখে যখন হাটজুড়ে চলছে কেবল কেনাবেচার হিসাব, তখন ভোলার এই ছোট্ট খামারে তৈরি হয়েছে ভালোবাসা, পরিশ্রম আর মায়ার এক ব্যতিক্রমী গল্প। যেখানে ‘কালাচান’ ও ‘সাদাচান’ শুধু গরু নয়, পরিবারেরই দু’টি আদরের সদস্য।