রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জোর করে এক দরিদ্র কৃষকের ফসলি জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভকলা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের হাউলি কেউটিল গ্রামের কৃষক আনোয়ার মোল্লা বুধবার উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা হলেন ওই এলাকার স্থানীয় সুলেমান খান, আঃ রশিদ খান ও দলিল উদ্দিন খান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন আলাপকালে কৃষক আনোয়ার মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, তিনি একজন নদী ভাঙ্গা পরিবারের দরিদ্র কৃষক। তার বসতবাড়ি সংলগ্ন একখণ্ড তিন ফসলি জমিতে তিনি পাট বীজ বপন করেছেন। এরই মধ্যে পাট গাছ গঁজিয়ে উঠেছে। অভিযুক্ত তিন ব্যক্তি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী লোকের জোরে আমার জমির পূর্ব পাশে তাদের ফসলি জমিতে পুকুর খননের নামে ইটভাটায় মাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে ভেকু মেশিন ভাড়া করে নিয়ে এসেছেন। এরই মধ্যে ওই জমির চারদিকে মাটি কেটে চালা তৈরি করেছেন। কিন্তু জমি থেকে মূল সড়কে মাটি নেয়ার জন্য তাদের নিজস্ব পথ নেই। এ ক্ষেত্রে তারা আমার পাট ক্ষেতের মাটি জোর করে কেটে সেখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছেন। আমি ও আমার পরিবারের লোকজন বাঁধা দিতে গেলে তারা আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে ও প্রাননাশের হুমকি দেয়। তারা নিজেদেরকে বিএনপির লোক পরিচয় দিয়ে আমাদের উপর অবৈধভাবে প্রভাব খাটাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে প্রতিকার চেয়ে গোয়ালন্দ এসিল্যান্ড স্যারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।’
অভিযুক্তদের মধ্যে সুলেমান খান মোবাইল ফোনে দাবি করেন, মাটিকাটার বিষয়ে তার কাছে প্রশাসনের অনুমতি আছে। তাছাড়া যে পাট ক্ষেতের জমির কথা বলা হয়েছে ওই জমির মালিক আমরাই। আনোয়ারকে পাট বুনতে দেয়া হয়েছিল। জোর করে মাটি কাটার অভিযোগ সত্য নয়।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসিব হাসান খান বলেন, ফসলি জমির মাটি কাটার ব্যাপারে কাউকে প্রশাসনের পক্ষ কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। কৃষক আনোয়ার হোসেন নামে ওই ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



