শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর লাশ খণ্ড খণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে এবং মাংস ফ্রিজে লুকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আটক হয়েছেন এক গৃহবধূ।
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে শরীয়তপুর পৌর এলাকার পালং উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে আসমা আক্তার নামের ওই নারীকে আটক করে পালং মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে গত মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে আসমা আক্তার পাশে থাকা একটি লোহার টুকরা দিয়ে তার স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন জিয়া।
ঘটনার পরপরই আসমা আক্তার লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে নৃশংসভাবে স্বামীর দেহ খণ্ড খণ্ড করেন। তিনি ছুরি দিয়ে হাত-পা ও শরীরের অংশ আলাদা করে হাত-পা একটি বস্তায় ভরে নড়িয়া উপজেলার নদীর পাড়ে ফেলে দেন। পরে মাথাসহ শরীরের অন্যান্য অংশ সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর পাড়ে ফেলে আসেন।
এতেই ক্ষ্যান্ত হয়নি ওই নারী, স্বামীর দেহের মাংস আলাদা করে আরেকটি বস্তায় ভরে তা পালং উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাড়ির ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। এসময় বাড়ির লোকজনের সন্দেহ হলে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আসমা আক্তারকে আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আটং বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর পাড় থেকে বস্তাবন্দী লাশের বাকি অংশ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে নড়িয়া উপজেলার মূলফৎগঞ্জ এলাকায় নদীর পাড় থেকে দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন আসমা আক্তার।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আসমা আক্তার স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশের বিভিন্ন খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও মর্মান্তিক। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্ত চলছে।’



