ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রাবাসে দুইদল ছাত্রের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সাত দিনের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়।
গত রাতে সংঘর্ষের ঘটনার পর ভোর রাতে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রশাসন। এই ঘটনা তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের এক কর্মকর্তা জানান, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো: মুয়াজ একই বর্ষের মীর হামিদুরের এক সহযোগিকে দিয়ে মোটরসাইকেলের জ্বালানি সংগ্রহ করে। এতে হামিদুর ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহযোগিকে দিয়ে কেনো জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়েছে এ নিয়ে মুয়াজের সাথে বাগ-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। হামিদুরের সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে হামিদুর চা খেতে বাইরে বের হলে তার মাথায় স্টিলের পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে ছাত্রাবাস এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এসময় দুই শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত মুয়াজকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে এবং হামিদুরকে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজমান ছিল। পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে ছাত্রাবাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সূত্রমতে, মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী এবং হামিদুর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের সমর্থক।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: নাজমুল আলম খান জানান, ঘটনার পর ভোর রাত ৪টার দিকে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় আগামী সাত দিনের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সাথে সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনার তদন্ত করতে এনাটমী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা: সোহেলী জান্নাত সুলতানাকে সভাপতি, বায়োকেমিষ্টি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ রফিকুল হককে সদস্যসচিব ও ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা: শামীমুল মাসুদ আহমেদকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।



