সিলেটে চিত্রনায়িকা শাবনুরের পিতা হত্যা মামলা

নিখোঁজ ইলিয়াস আলীসহ বিএনপির ৩৮ নেতাকর্মী খালাস

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে এই মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, সিলেটের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম মামলার আসামিদের খালাসের রায় ঘোষণা করেন।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
ইলিয়াস আলী
ইলিয়াস আলী |নয়া দিগন্ত

সিলেটে যাত্রীবাহী বাস পোড়ানো ও চিত্রনায়িকা শাবনুরের পিতা হত্যা মামলায় নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ ৩৮ নেতাকর্মীকে খালাস দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে এই মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, সিলেটের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম মামলার আসামিদের খালাসের রায় ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বদিকোনা এলাকায় মহাসড়কে বাসে অগ্নিসংযোগ ও এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পর মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী, অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ, নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারসহ ৩৮ আসামির সবাই।

আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসান রিপন পাটোয়ারী, মসরুর চৌধুরী শওকত ও সাঈদ আহমদ প্রমুখ।

মামলার সূত্র মতে, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ সুরমার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বদিকোনা এলাকায় সিলেট-হবিগঞ্জ সুপার এক্সপ্রেসের বাস পোড়ানো এবং একই সঙ্গে আরেকটি বাস ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় নিহত হন চিত্র নায়িকা শাবনূরের পিতা কাজী নাছির (৭০)। যার পরিচয় শনাক্ত হয়েছিল বেওয়ারিশভাবে লাশ দাফনের ১৩ দিন পর ২০১২ সালের ১লা জানুয়ারি। সেই সময় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয় দিয়ে এক নারী দাবি করেন, নিহত ব্যক্তি চিত্রনায়িকা শাবনূরের বাবা।

জ্যোৎস্না বেগম নামে ওই নারীর বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতের নাম কাজী নাছির (৭০)। বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। দক্ষিণ সুরমা থানায় এসে নাছিরের পরিচয় শনাক্ত করেন তিনি। ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চলাকালে দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুর বদিকোনা এলাকায় একটি বাসে আগুন দেয়া হয়। এতে বাসের মধ্যেই মারা যান ওই বৃদ্ধ। দুইদিন পর ২০ ডিসেম্বর বেওয়ারিশ হিসেবে ওই ব্যক্তির লাশ নগরীর মানিকপীরের গোরস্থানে দাফন করে পুলিশ।

তৎকালীন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শ্যামা ইকবাল হায়াত সাংবাদিকদের তখন জানিয়েছিলেন- সকালে নিহতের স্ত্রী জ্যোৎস্না থানায় এসে লাশটি তার স্বামীর বলে জানান। পায়ের জুতা ও মুখমণ্ডলের ছবি, হাতের ঘড়ি ও কোমরের বেল্ট দেখে স্বামীর পরিচয় শনাক্ত করেন তিনি।

গাড়িতে আগুনের ঘটনায় ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে দক্ষিণ সুরমা থানায় দুটো মামলা হয়। এসআই মো. হারুন মজুমদার বাদি হয়ে হত্যা মামলা এবং পরিবহন ব্যবসায়ী শাহ নূরুর রহমান বাদি হয়ে দ্রুত বিচার আইনে আরেকটি মামলা করেন।

মামলায় আসামিরা হলেন- বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী, সাবেক কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, বিএনপি নেতা এটিএম ফয়েজ, নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, কোহিনুর, আশিক, মকছুদ আহমদ , রাসেল, তোরন, সামছুল ইসলাম টিটু, এমএ মান্নান, অলিউর রহমান, কামাল হোসেন, রুবেল আমিন সুমন (কাউয়া সুমন), তোফায়েল আহমদ সুহেল, শরিফ আহমদ, আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুল বাছিত, সুহেল, মো. কামরুজ্জামান, আজমল বখত সাদেক, শাকিল মোর্শেদ, শাহাব উদ্দিন, মো. শাহজাহান, শামীম, তাজুল ইসলাম, আলী মিয়া, হোসেন আহমদ, ছালেক আহমদ, জোবায়ের আহমদ, ফখরুল ইসলাম ফারুক ওরফে টাকু ফারুক, লুৎফুর রহমান, মো. জাহেদ হোসেন, জালাল আহমদ, মুসা মিয়া, জিহাদ চৌধুরী, মো. আব্দুল মজিদ, মজম্মিল আলী, আঙ্গুর মিয়া ও সুহেদুর রহমান।