সিলেট নগরীতে বাড়ছে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা। দুটি আলোচিত ঘটনায় আক্রান্তরা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করলেও ভিন্নমত জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। দুটি ঘটনাকে ছিনতাই মানতে নারাজ পুলিশ। তারা বলছেন ঘটনাগুলো ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটেছে।
জানা গেছে, শনিবার ভোরে সিলেট নগরীর টুকেরবাজারের তেমুখী এলাকায় ছিনতাইকারীদের হামলায় আক্রান্ত হন রায়হান আহমদ। বর্তমানে তিনি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার অভিযোগ, সিএনজি অটোরিকশায় আসা ৩ ছিনতাইকারী তাকে মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। তাদের মারধরেই আহত হন বলেই অভিযোগ রায়হানের।
তবে এই ঘটনা নিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ-এসএমপি বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, তেমুখীর ঘটনাটি ছিনতাই সংক্রান্ত নয়। সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে হামলায় আহত হন রায়হান।
এর আগে গত ৩১ মার্চ রাতে নগরীর তালতলায় আরেকটি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, ৩টি মোটর সাইকেলে আসা ৬/৭ জন যুবক একটি অটোরিকশার গতি রোধ করে। এসময় অটোরিকশার যাত্রীদের সাথে মোটরসাইকেলে আসা যুবকদের হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে পথচারী আরেক তরুণকে দৌঁড়ে ধরে ব্যাপক মারধর করে মোটরসাইকেলে আসা ওই ব্যক্তিরা। সেদিন মারধরে আহত তরুণ দুর্জয় অধিকারী (২২) এর অভিযোগ, তাকে মারধর করে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। দুর্জয়ের অভিযোগের বরাত দিয়ে পরে গণমাধ্যমে এই ঘটনাকে ‘ছিনতাই’ আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
তবে পুলিশ বলছে, এটিও ছিনতাইয়ের ঘটনা নয়, বরং পূর্ব বিরোধের ঘটনা নিয়ে এমনটি ঘটেছে।
এ নিয়ে শনিবার রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ফেইসবুক পেইজে ‘ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ প্রসঙ্গে’ শিরনোমে একটি পোস্ট করা হয়।
এতে বলা হয়- ‘ইদানিং লক্ষ করা যাচ্ছে, ব্যক্তিগত বিরোধের ফলে মারামারি বা অন্যান্য বিষয়ে সংগঠিত একাধিক ঘটনাকে মিডিয়াতে ছিনতাই হিসেবে নিউজ করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত।’
উদাহরণ হিসেবে তালতলা ও তেমুখীর ঘটনা দুটির কথা উল্লেখ করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সচেতন থাকতে অনুরোধ করা হয়। একই সাথে মিডিয়াতে ছিনতাই সংক্রান্ত নিউজ যাচাই-বাছাই করে প্রচারের অনুরোধ জানিয়ে ‘অন্যথায়, এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’ বলেও হুমকী দেয়া হয়।
পুলিশের এমন দাবি প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রায়হান উদ্দিন ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে আবারও দাবি করেন।
তিনি বলেন, নিজেদের দোষ আড়াল করার জন্য সিএনজি চালকরা পুলিশকে মিথ্যে তথ্য দিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সঠিক ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, আমি রক্তাক্ত জখম, আমার মাথায় ও নাকে আঘাত করা হয়েছে। রক্তমাখা টিশার্ট জালালাবাদ থানার ওসি সাহেব নিয়ে গেছেন। ছিনতাইয়ের ঘটনা আড়াল করতে তারা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। শনিবারও নগরের আম্বরখানা এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক কলেজ শিক্ষক। এছাড়া নগরের আলোচিত কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় নগরজুড়ে সমালোচনা ও আতঙ্ক রয়েছে। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হলেও বেশিরভাগ অভিযুক্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এ নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ রয়েছে। ফলে ফেইসবুকে পুলিশের এমন স্ট্যাটাসের নিচে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন।
এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো: মনজুরুল আলম বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, তালতলা ও তেমুখীর ঘটনা দুটি ছিনতাই সংক্রান্ত নয়। পুলিশ এসব ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। অনেক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।



