চাঁদপুরের মতলব উত্তরে বেদে পরিবারের সদস্য পেয়ারা বেগম ও সাথী বেগমের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও দখল চেষ্টার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে মতলব উত্তর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী জহিরুল হক প্রধান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কালাম হোসেন, বিশা বেপারী, মনজুর আলম, জহির প্রধান, শহীদুল্লাহ, হারুন, আবু কালাম, বাবুলসহ স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
এ সময় শিকিরচর গ্রামের বাসিন্দাদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, বেদে পেয়ারার পরিবারের অত্যাচার ও মিথ্যা মামলার যন্ত্রণায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
পরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষরও দেয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
লিখিত বক্তব্যে জহিরুল হক প্রধান জানান, তার বাবা ১৯৮৫ সালে জনাব মকবুল হোসেনের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে একটি জায়গা লিজ নেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি নিজ নামে লিজ গ্রহণ করে সেখানে ব্যবসা শুরু করেন। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ওই স্থানে দোকান পরিচালনা করেন তিনি। পরে পৌরসভার উদ্যোগে ম্যুরাল নির্মাণের কথা বলে দোকানটি ভেঙে ফেলা হলেও আর কোনো নির্মাণকাজ হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে পেয়ারা বেগম জায়গাটি দখলের চেষ্টা করেন। সে সময় তিনি বিদেশে থাকায় সুযোগ নিয়ে তার ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে মাসে ১৮ হাজার টাকা করে ভাড়া আদায় করেন পেয়ারা।
জহিরুল আরো বলেন, ‘চলতি বছরের পঞ্চম রমজানে তিনি দোকানটি মেরামতের জন্য ভাড়াটিয়াকে নির্দেশ দিলে পেয়ারা স্থানীয় বণিক সমিতির কাছে অভিযোগ করেন। পরে বণিক সমিতির সভাপতি উভয়পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে রমজানের পর সালিশের সিদ্ধান্ত দিলেও পেয়ারা সেখানে উপস্থিত হননি।‘
সংবাদ সম্মেলনে তিনি একাধিক মামলার তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘৪ মার্চ একটি ফৌজদারি মামলায় তাকে, রেজাউল করিম প্রধান, আনোয়ার হোসেন ও আমিরুল ইসলামকে আসামি করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। এছাড়া ৪ মে আরেকটি মামলায় বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ এনে ৫ মে আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।’
বর্তমানে ওই মামলায় জামিনে রয়েছেন তারা।
জহিরুল হক প্রধানের অভিযোগ, বুধবার সন্ধ্যায় পেয়ারা নিজ কাপড়ে নিজেই আগুন লাগিয়ে থানায় গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছেন। এটি সম্পূর্ণ নাটক ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন কালাম হোসেন নামের আরেক ভুক্তভোগী।
তিনি জানান, কিস্তিতে কেনা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বিরোধের জেরে পেয়ারা তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা করেন। ওই মামলা থেকে রেহাই পেতে তাকে ঘুষ ও জরিমানাসহ বড় অঙ্কের টাকা গুনতে হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে নিজের অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীরা স্থানীয় প্রশাসন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক এবং চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের কাছে আইনি প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তারা সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান।



