কাউখালীতে নোংরা পরিবেশে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান

লাইব্রেরী, ক্লাস রুম সর্বত্রই নোংরা, ওয়াল, দরজা, জানালার সাথে মাকড়সার জাল বুনানো, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের স্থান, স্কুলের সিঁড়ি কিম্বা সামনের আঙ্গিনা সর্বত্রই যেন ময়লা আবর্জনায় ভরপুর।

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

Location :

Kaukhali
প্রাথমিক বিদ্যালয়
প্রাথমিক বিদ্যালয় |নয়া দিগন্ত

দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনা থাকলেও পিরোজপুরের কাউখালীতে বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অনেক বিদ্যালয়ে অপরিচ্ছন্ন শ্রেণি কক্ষ, আবর্জনায় ভরা আঙিনা এবং অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও বিশুদ্ধ পানি সঙ্কটের মধ্যেই চলছে শিশুদের পাঠদান।

বিভিন্ন স্কুল ঘুরে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে কিছু বিদ্যালয় সবকিছু মিলে সুন্দর পরিবেশে পরিচালিত হওয়ারও দৃষ্টান্ত আছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার করা হচ্ছে না বলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান।

লাইব্রেরী, ক্লাস রুম সর্বত্রই নোংরা, ওয়াল, দরজা, জানালার সাথে মাকড়সার জাল বুনানো, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের স্থান, স্কুলের সিঁড়ি কিম্বা সামনের আঙ্গিনা সর্বত্রই যেন ময়লা আবর্জনায় ভরপুর।

কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ময়লা-আবর্জনার পাশে বসেই ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। নোংরা পরিবেশে স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, পরিবেশ দূষণ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও অনেক বিদ্যালয়ে এখনো মাঠ, পরিচ্ছন্নতা ও মৌলিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। অন্যথায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা প্রতিটি স্কুলের পরিবেশ হতে হবে সুন্দর ও স্বচ্ছ। এজন্য প্রতিদিনই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে হবে।

অথচ উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয় গেলে দেখা যায় যে স্কুলের সামনে এবং আঙ্গিনার চারিদিকেই ময়লা আবর্জনায় ভরপুর এমনকি ক্লাসরুম লাইব্রেরি রুমেও মাকড়সার জালে নোংরা হয়ে আছে।

এসব ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করার চেষ্টা সবসময় করি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্র অভিভাবকরা জানান, প্রশাসনের যথাযথ তদারকি না থাকার কারণে সরকারি নির্দেশনা মেনে স্কুলগুলো সঠিকভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয় না।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জনবল সঙ্কটের কারণে নিয়মিত সব স্কুল পরিদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি নিয়মিত স্কুলগুলো পরিদর্শন করার জন্য।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া আছে। শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।