যমুনা ফার্টিলাইজারে শ্রমিকদের বেতন থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

অভিযুক্তদের পরিচয় ও সিসিটিভি ফুটেজে অভিযোগ উঠেছে, পোগলদিঘা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে লিটন, অংকন, উজ্জল, মিঠু, মিলন, টিটু, জুলহাস, মজনু, রিপন, ইউসুফ, শামীম, মোতালেব, রুবেল, শফিক ও বাপ্পি এই চক্রের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।

খাদেমুল বাবুল, জামালপুর

Location :

Jamalpur

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান তারাকান্দি যমুনা ফার্টিলাইজারে কর্মরত ১৬৫ জন শ্রমিকের মাসিক বেতন থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কারখানার অভ্যন্তরে ও প্রধান ফটকে এই চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কারখানায় শ্রমিক সরবরাহের কোনো ঠিকাদার নিযুক্ত না থাকায় সরাসরি প্রশাসনের অধীনে কাজ করছেন ১৬৫ জন দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক।

মঙ্গলবার কারখানার প্রশাসনিক ভবন থেকে শ্রমিকদের মাসিক বেতন নগদ টাকা প্রদান করা হচ্ছিল।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ সময় বেতন নিয়ে বের হওয়ার পরপরই ২৫-৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র কারখানার প্রধান ফটক, ক্যান্টিন এবং ভেতরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। তারা শ্রমিকদের গতিরোধ করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বেতন ভাতা থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, প্রকাশ্যে এই চাঁদাবাজি চললেও নিরাপত্তার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।

আব্দুস সামাদ (সিভিল বিভাগ) অভিযোগ করেন, তাকে হুমকি দিয়ে ও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তার বেতনের টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে।

আবুল কালাম আজাদ (সিভিল বিভাগ) জানান, তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ২ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

চরপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি নবায়নে চাকরি করি। বেতন পেয়েছিলাম ১২ হাজার টাকা। সেখান থেকে ৪ হাজার টাকা অংকন ও জুলহাস নামে দুই ব্যক্তি জোরপূর্বক পকেট থেকে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় বলে যায়- এখানে চাকরি করলে বেতনের অর্ধেক দিতে হবে।

অভিযুক্তদের পরিচয় ও সিসিটিভি ফুটেজে অভিযোগ উঠেছে, পোগলদিঘা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে লিটন, অংকন, উজ্জল, মিঠু, মিলন, টিটু, জুলহাস, মজনু, রিপন, ইউসুফ, শামীম, মোতালেব, রুবেল, শফিক ও বাপ্পি এই চক্রের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।

সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, বাপ্পি নামের এক যুবক কারখানার প্রধান ফটক থেকে শ্রমিকদের ধরে নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, শতাধিক শ্রমিকের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে জেএফসিএল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম তালুকদার বলেন, বিষয়টি শুনেছি, তবে এটি সম্পূর্ণ জেএফসিএল কর্তৃপক্ষের দেখভালের বিষয়।

যমুনা সার কারখানার জিএম (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন ঘটনা স্বীকার করে বলেন,​ বেতন থেকে টাকা কেটে রাখা বা চাঁদা আদায়ের বিষয়টি আমরা জেনেছি। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট একটি পরিস্থিতি প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, মৌখিকভাবে বিষয়টি শুনলেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।