রাজধানীর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা আক্তারকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি শামীম ওরফে স্বপনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় হত্যার কাজে ব্যবহৃত শিলপাটা ও লুট করা কানের দুল উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ধামরাই পৌর শহরের লাকুড়িয়াপাড়া মহল্লার একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় এই হত্যার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নিহত নাহিদা আক্তার ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুলের বাণিজ্য বিভাগ থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তার মা প্রবাসী হওয়ায় তিনি নানির সাথে ওই ফ্ল্যাটে সাবলেটে ভাড়া থাকতেন। তার বাবা বরিশালে থাকতেন।
পুলিশ ও সংবাদ সম্মেলন সূত্রে জানা যায়, নিহত নাহিদা ও অভিযুক্ত শামীম একই ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে ভাড়া থাকতেন। আগে থেকেই নাহিদাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন শামীম। মূলত অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে ঋণের দায়ে ছিলেন শামীম। ঋণের দায় মেটাতে কিছু টাকার জন্য শামীম এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে।
ঘটনার দিন বিকেল ৫টার দিকে নাহিদার নানি বাসার বাইরে যান। এই সুযোগে শামীম ডিম ভাজার জন্য পেঁয়াজ-রসুনের প্রয়োজন— এমন অজুহাতে কৌশলে নাহিদাদের ঘরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকেই তিনি নাহিদার কাছে টাকা দাবি করেন। নাহিদা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শামীম প্রথমে ওড়না দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরেন এবং ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে ফেলে দেন।
এরপর নিজের কাছে থাকা কাটার দিয়ে নাহিদার গলা কাটেন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ঘরে থাকা শিলপাটা দিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নাহিদার কানে থাকা দুল খুলে নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে ওই দিন রাত ৮টার দিকে পুলিশ ফ্ল্যাট থেকে লাশ উদ্ধার করে।



