রাজশাহীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে প্রায় ৫০০ নেতাকর্মী জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন।
শনিবার (১৬ মে) রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনসিপির রাজশাহী মহানগর শাখা।
অনুষ্ঠানে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দল থেকে আসা প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মীকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় মঞ্চ থেকে নবাগতদের আগের রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক পদ ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির রাজশাহী মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মোট ৫০০ জন এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।
এসময় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এনসিপির রাজশাহী মহানগর সদস্যসচিব আতিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি আপনি সংস্কার বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে বাংলাদেশে আপনার গদি থাকবে কি না সেই নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি না। কারণ, জনগণ ভোট দিয়েছে। জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে। এই জনগণের বাক্সে যদি কেউ লাথি মারতে চায়, আমরাও তার গদিতে লাথি মারতে কোনো কুণ্ঠাবোধ করব না।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা উকিঝুঁকি করতেছেন। আওয়ামী লীগ বিভিন্ন জায়গায় মিছিল নামাচ্ছে। আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলব, যদি শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসতে পারে; তাহলে তারা প্রথম কোপ, প্রথমে গুলি চালাবে তারেক রহমানের ওপরে। তারেক রহমানের ইতিহাস জানা উচিত। সেই সময় তারা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল।’
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘যদি উনি ইতিহাস না জানেন, তাহলে তার বাপের যে পরিণতি হয়েছিল, একই পরিণতি সন্তানের হবে। এই জন্য তারেক রহমানকে আমরা বলব- ডোন্ট ডু কম্প্রোমাইজ উইথ আওয়ামী লীগ। আমরা কিন্তু একই ফ্রন্টে যুদ্ধে করছি। তাহলে আমাদের ফ্রন্টিয়ার লাইন দুটি হবে। আমরা কিন্তু একই পাল্লায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে রাখতে দ্বিধা করব না।’
ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই দিনে রাজশাহী থেকে ভারতের বিরুদ্ধে একটি বড় যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এই দিবসে মওলানা ভাসানী ভারতের বিরুদ্ধে বলেছিলেন, পানির ন্যায্য অধিকার ছাড়ব না। সেই ভাসানীর যে মার্কা ছিল তা বিএনপি চুরি করে আজকে ভারতের বিরুদ্ধে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করছে। যদি তোমরা ভাসানীর মার্কা নিতে পার, তাহলে তার নীতিও নিতে হবে। না হলে ভাসানীর মার্কা ফেরত দাও।’
তিনি বলেন, ‘ভারতীয় যে বাহিনী রয়েছে বাংলাদেশে, সিভিল ফরম্যাটে আওয়ামী লীগ। এই ভারতকেন্দ্রীক বাহিনীর সাথে কোনো কম্প্রোমাইজ করা চলবে না। ভারতের সাথে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি চলবে না। যদি বলেন- সবার আগে বাংলাদেশ, তাহলে সীমান্তে কিভাবে খুন হয়?’
নদীতে পানি না থাকায় খাল খননেরও সমালোচনা করে এনসিপি নেতা বলেন, ‘এরা আমাদের উল্টো সায়েন্স বোঝায়। যদি খাল খনন করতে হয়, তাহলে তো আগে নদীতে পানি নিয়ে আসতে হবে। এখন যদি ভারতের সামনে গিয়ে নমো নমো শুরু করে, তাহলে কি আমাদের কোনো ব্যবস্থা হবে? এই জন্য সরকারকে বলব, রাজশাহীবাসীর নদীতে আমরা পানি চাই। আমাদের জীবন বাঁচাতে হলে পানি দরকার। রাজশাহীবাসীকে বলব, যদি পদ্মা নদীতে পানি না আসে, আপনারা ঢাকায় যাবেন, ভারতের দিকে লংমার্চ করবেন।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে বেগম খালেদা জিয়া ও মেজর জিয়াকে সামনে রেখে। তারেক রহমান তার যোগ্য পিতা-মাতার উত্তরসূরি হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটা সুযোগ পেয়েছেন। তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তিনি এই সুযোগটা কাজে লাগাবেন কি না। কিন্তু আমরা যখন দেখি আওয়ামী লীগের সময়ে যেভাবে মিডিয়া দখল করা হতো, তার সময়ে একই কায়দায় মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা ছাড়াই দলীয় নেতাকর্মী দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তখন আমরা আগের যে বাংলাদেশ ছিল- সেই বাংলাদেশের লক্ষণ আমরা আবারো দেখতে পাই।’
সারজিস বলেন, ‘অভ্যুত্থানের আগে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হতো। এখনো হচ্ছে। যেগুলোর কারণে একটা অভ্যুত্থান হয়েছে, সেই কাজগুলো যদি বিএনপির নেতাকর্মীদের দিয়ে আবারো হয়, তাহলে আমরা আগামী দিনে বিএনপির রাজনীতি নিয়ে শঙ্কিত। আমরা বিশ্বাস করি, এই রাজনীতি করে আগামীর বাংলাদেশে কেউ আর টিকে থাকতে পারবে না।’
সারজিস আলম বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে ফিফটি পার্সেন্ট মানুষ ভোট দিয়েছে। তার মানে এখনো অর্ধেক মানুষ আছে যারা বিএনপিকে ভোট দেয়নি। যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছে তারা তিন মাস যেতে না যেতেই হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ এখনই বিএনপির ওপর হতাশ হয়ে গেছে। তারা মনে করছে বিএনপি তাদের সাথে প্রতারণা করেছে। বিএনপির প্রতারণা মনে রেখে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে হবে।’



