সিলেটে হানিট্র্যাপ চক্রের ৪ সদস্য পুলিশের জালে, উদ্ধার ২ তরুণ

নগরীর কোতোয়ালী থানাধিন যতরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্যরা
হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্যরা |নয়া দিগন্ত

সিলেটে নারীকে ব্যবহার করে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্য দুই নারীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কবল থেকে মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) ও মাহফুজ আলী (২৫) নামে দুই তরুণকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এসএমপির কোতোয়ালী মডেল থানা প্রাঙ্গণে প্রেসব্রিফিংয়ের মাধমে বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার ভোরে নগরীর কোতোয়ালী থানাধিন যতরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন জড়িত থাকলেও তারা পালিয়ে যান এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন কানাইঘাটের বাসিন্দা তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), গোয়াইনঘাটের মো: আব্দুল জলিল (৩০), নগরীর মিরাবাজারের জেসমিন আক্তার (২২) ও দক্ষিণ সুরমা গঙ্গানগরের মো: জায়েদ আহমদ (৩৫)।

আটকের সময় গ্রেফতারদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, একটি সিএনজি অটোরিকশা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং ভিকটিমদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নেয়া আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স ও আইটেল মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে নগরের মেন্দিবাগ পয়েন্ট থেকে রিফাত ও মাহফুজকে হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্য মো: আব্দুল জলিল প্রতারণার মাধ্যমে অপর সদস্য মো: জায়েদ আহমদ চালিত সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। এরপর রাত সাড়ে ১০টায় যতরপুর এলাকার নবপুষ্প-১১৩ নম্বর বাসার পঞ্চম তলায় নিয়ে গিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সহায়তায় ভিকটিমদের জিম্মি করে। ওই বাসায় পূর্ব থেকেই অবস্থানরত জেসমিন আক্তার এবং চক্রের মূলহোতা তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহাসহ চার-পাঁচজন সহযোগী মিলে ভিকটিমদেরকে ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে ইলেকট্রিক শক প্রদানের মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন চালান। তাদেরকে জোরপূর্বক উলঙ্গ করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে মোট ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে ভিকটিম মাহমুদুল হাসান রিফাত আত্মীয়-স্বজনের নিকট থেকে ৯০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে আনিয়ে দেন। তখন ওই দুই যুবকের পরিবারের লোকজন সন্দেহের প্রেক্ষিতে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

পুলিশ আরো জানায়, এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আসামিদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।