সিলেটের ফাহিমা হত্যার বিচারও দ্রুত চাইলেন জামায়াত আমির

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট শহরতলীর বাদাঘাট এলাকায় নির্যাতনে নিহত শিশু ফাহিমার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সিলেটে নির্যাতনে নিহত শিশু ফাহিমার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান
সিলেটে নির্যাতনে নিহত শিশু ফাহিমার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান |নয়া দিগন্ত

ঢাকার পল্লবীতে সংঘটিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের মতো সিলেটের শিশু ফাহিমা হত্যার বিচারও দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্নের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।

এসময় তিনি তেলের দাম বৃদ্ধিতে সরকারের সমালোচনা করেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিলেট শহরতলীর বাদাঘাট এলাকায় নির্যাতনে নিহত শিশু ফাহিমার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলায় নিহত চার বছরের শিশু ফাহিমার ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে তিনি শোকসন্তপ্ত বাবা-মায়ের সাথে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং এ মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এসময় পরিবারের সদস্যরা তাদের সন্তান হারানোর বেদনা ও ঘটনার বিভিন্ন দিক বিরোধীদলীয় নেতার কাছে তুলে ধরেন। তিনি তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আশ্বাস দেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘শিশু ফাহিমার ওপর সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনা পুরো জাতিকে ব্যথিত করেছে। বিচারহীনতা এবং বিলম্বিত বিচারের কারণে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে।’

তিনি বলেন, ‘ফাহিমা হত্যা মামলার বিচার যদি দীর্ঘসূত্রিতার দিকে যায়, তাহলে আমরা ধরে নেব এই বিচার আর হবে না। রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের মতো ফাহিমা হত্যার বিচারও ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে সরকারকে এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ক্ষমতায় থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট বলেছি, এটা জনগণের প্রতি সুবিচার করা হয়নি। এটা সরাসরি জনস্বার্থ বিরোধী। পার্লামেন্টকে পাশ কাটিয়ে তড়িঘড়ি করে এটা করা হয়েছে। এতে নির্বাচিত সংসদের অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে।’

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘পেট্রোল-কেরোসিনের দাম বাড়া মানে সরাসরি করের বোঝা জনগণের ঘাড়ে চাপানো। কারণ মালিকরা যখন ব্যবসা করে, বাড়তি পয়সা কি তাদের পকেট থেকে দেবে? তারা জনগণের কাছ থেকে এটা আদায় করবে। জনগণ সবাই গাড়ি চালায় না এবং সবাই ইন্ডাস্ট্রির মালিক না। কিন্তু জনগণ সবাই জিনিসপত্র কিনে খায়, ওই গাড়ি চালক যারা, তাদের গাড়ির পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে, তখন জিনিসপত্রের দাম অটোমেটিক্যালি বাড়বে। অতএব ফকির থেকে আমীর, ধনী থেকে গরীব, শিশু থেকে বৃদ্ধ, এই করের যন্ত্রণা সবার ঘাড়ে চাপতেছে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘একটু দরদ নিয়ে চিন্তা করা দরকার ছিল। এই কেবল গত মাসে তেলের দাম ৮ থেকে ১২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, আবার এক মাসের ব্যবধানে তিনটা আইটেমের ওপর ৫ টাকা করে দাম বাড়ানো হলো। এটা আসলেই জনগণের উপর একটা জুলুম। আর তা যদি করতেই হয়, এই সামনে বাজেট অধিবেশন ছিল, সেখানে আমরা খোলামেলা কথা বলতে পারতাম। সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কিভাবে ওয়ার্কআউট করা যায়, সেটা চিন্তা করতাম এবং বিগত অধিবেশন একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে, জ্বালানি ক্রাইসিস মোকাবেলার জন্য। সেই কমিটিতেও আলোচনা করা যেত। তার কিছুই সরকার না করে তড়িঘড়ি করে পাশ কাটিয়ে কাজ করেছে, এটা আমরা মনে করি, জনগণের সাথে একটা প্রতারণা।’

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের নির্বাচিত পার্লামেন্টের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। সেখানে আলাপ করে সেটা করলে জনগণও তখন বুঝতো, তার কতটুকু করা দরকার। আর আলাপ যখন হতো, তখন নায্য কথা সেখানে আলাপ হতো। সরকারও বাধ্য হতো নায্যতার ভিত্তিতে চিন্তা একটা করতে, হয় সিদ্ধান্ত নিবে অথবা সরে আসবে। কিন্তু তা কিছু না করে, তাও দেখবেন, আবার জনগণ যাতে টের না পায়, গভীর রাতে। জনগণ যখন ঘুমিয়ে গেছে, তখন তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এতো ভালো কাজ দিনের বেলা করলেন না কেন। তার মানে তারাও বুঝতে পারছেন, এটা ভালো কাজ না।’

বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এটুকু বলা যায়, মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ ভালো নেই।’

সাক্ষাৎকালে জামায়াত আমিরের সাথে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিলেট অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান ও সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, শিশু ফাহিমা আক্তারকে অপহরণ, ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটির বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছে।