সৌদি আরব যাওয়ার জন্যে রাজধানীর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রশন চ্যানেল পার হওয়ার সময় শাহ আজম প্রান্ত (২৫) নামে এক ধর্ষণ মামলার আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার প্রান্ত কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের আহুতিয়া গ্রামের মরহুম মতিন শাহর ছেলে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধু পাশের বাড়ির বাসিন্দা।
মঙ্গলবার রাতে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে তিনি গ্রেফতার হন। পরে তাকে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত প্রান্ত গা ঢাকা দেয়। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেফতার করা যায়নি। মামলা তদন্তকালে অভিযুক্ত প্রান্ত বিদেশ চলে যাওয়ার পায়তারা করছে এমন সংবাদ পাওয়ার পর, তার পাসপোর্ট নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য ইমিগ্রশন পুলিশকে জানানো হয়। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে প্রান্ত বিমান বাংলাদেশে এরারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরব যাওয়ার প্রস্তুতিকালে তাকে গ্রেফতার করে ইমিগ্রশন পুলিশ।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন চ্যানেল পার হওয়ার সময় প্রান্ত নামে এক ধর্ষণ মামলার আসামিকে গ্রেফতার করে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। তাকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত প্রান্ত সম্পর্কে ওই গৃহবধূর চাচাতো দেবর। তাদের দুজনের বাড়িও পাশাপাশি। এ সুবাদে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর রাতে থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে বারবিকিউ রান্না করে দেয়ার জন্য প্রান্ত ওই গৃহবধূকে নিজ ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে যাওয়ার পর নানা ধরণের টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে প্রান্ত। এক পর্যায়ে তিনি চলে আসতে চাইলে তাকে জাপটে ধরে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে।
ওই গৃহবধূ জানায়, এ ঘটনা প্রকাশ করলে তার সংসার ভেঙ্গে যাবে। এমন ভয় দেখিয়ে তাকে আরো একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। পরে তিনি নিরুপায় হয়ে সম্প্রতি বিষয়টি তার শ্বশুড়ের পরিবারের লোকজনকে জানায়। তাদের পরামর্শে গত ২৭ মার্চ রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদি হয়ে প্রান্তর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাকুন্দিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।



