সৈয়দপুরে এস এ পরিবহন থেকে ১৪ বস্তা পটকা জব্দ

পটকা ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে এই ভারতীয় অবৈধ মাল সংগ্রহ করে এনে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে সরবরাহ করে। দীর্ঘদিন থেকে সৈয়দপুরে বিশাল মজুদ গড়ে তুলেছে তারা। থানাসহ প্রশাসনের সর্বস্তর ও মিডিয়ার লোকজনকে মাসোহারা দিয়ে এই বেআইনি কারবার চলছে দেদারসে।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

Location :

Saidpur
ফাইল ছবি

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে এস এ পরিবহন পার্সেল সার্ভিস কাউন্টার থেকে ১৪ বস্তা ভারতীয় পটকা জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার পৌর শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কে এই ঘটনা ঘটেছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পর পর দুই দিন অভিযান চালিয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ পটকাগুলো উদ্ধার করে। এগুলো সৈয়দপুর শহরের চিহ্নিত পটকা কারবারি সেলিম, আলম, আলিম, ফিরোজ ও রহমানের।

জানা যায়, উৎসব সামগ্রীর নামে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে চকলেট বোমাসহ বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় আতশবাজী, পটকা চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে নিয়ে আসেন ওই ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় পুলিশ প্রথমে এস এ পরিবহনের ওই কাউন্টারে অভিযান চালায়। এসময় ৪ বস্তা পটকা পাওয়া যায়। এগুলোর মালিক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সেলিম উদ্দিন।

এরপর শনিবার সকালে আবারো অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় আরো ১০ বস্তা পটকা পাওয়া যায়। এগুলোর মালিক আলম, আলিম, ফিরোজ ও রহমান। পরে এই ১০ বস্তা পটকাও জব্দ করে থানায় নেয়া হয়। সৈয়দপুর থানার এসআই ঋষিকেশ চন্দ্র বর্মণের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।

এস এ পরিবহন পার্সেল সার্ভিস সৈয়দপুর শাখার ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, পুলিশ যে মালামাল জব্দ করেছে সেগুলো বৈধ পণ্য। এগুলো দেশের ভিতর থেকেই কেনা এবং এসংক্রান্ত চালানও আছে। যদি দেশের বাহির থেকে কেনা হতো এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকে কেনার ক্যাশমেমো ও চালান না থাকতো তাহলে এগুলোকে অবৈধ বলা যেতো। বৈধ বলেই আমরা নিয়মিত এসব পণ্য পরিবহন করছি। একইভাবে অন্যান্য কোম্পানীও এসব পার্সেল সার্ভিস দিয়ে আসছে। তাছাড়া যাদের মাল তারা এগুলোতো প্রকাশ্যেই সৈয়দপুর মার্কেটে বিক্রি করছে। অবৈধ হলে কিভাবে বিক্রি হচ্ছে? পুলিশ অহেতুক জব্দ করেছে। আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখছেন। এস এ পরিবহনের ইমেজ ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

সূত্র মতে, সৈয়দপুরে উল্লেখিত পটকা ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে এই ভারতীয় অবৈধ মাল সংগ্রহ করে এনে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে সরবরাহ করে। দীর্ঘদিন থেকে সৈয়দপুরে বিশাল মজুদ গড়ে তুলেছে তারা। থানাসহ প্রশাসনের সর্বস্তর ও মিডিয়ার লোকজনকে মাসোহারা দিয়ে এই বেআইনি কারবার চলছে দেদারসে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈয়দপুরে পটকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতো মূলত: আহমেদ বুড়া নামে একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ আমলে এই বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন ছাত্রলীগ নেতা সেলিম উদ্দিন। এজন্য তিনি পুলিশের সাথে আঁতাত করে প্রায়ই অন্যদের মাল ধরিয়ে দেন এবং তাদেরকে তার কাছ থেকে মাল নিয়ে ব্যবসা করতে বাধ্য করেন। গত প্রায় ১০ বছর থেকে এভাবেই চলে সেলিমের দাপট। আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে পটকা কারবারে সেলিমের আধিপত্য খর্ব করতে মরিয়া অন্যরা। এরই অংশ হিসেবে সেলিমের ৪ বস্তা পটকা ধরিয়ে দেয়া হয় শুক্রবার। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সেলিমও অন্যদের ১০ বস্তা পটকা জব্দে সহযোগিতা করেছেন। এভাবে তাদের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়েছে পুলিশ। আপাতত জব্দ করে মাসোহারা নতুন করে সেটিং হলে আগের মতোই চলবে পটকা কারবার। ইতোপূর্বেও এমন নাটক করা হয়েছে। আর এস এ পরিবহনেই বেশি পটকা আসে সৈয়দপুরে।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা বলেন, দুই দিনে মোট ১৪ বস্তা পটকা জব্দ করা হয়েছে। মালিক পাওয়া যায়নি তাই আপাতত সিজার লিস্ট করে আমাদের জিম্মায় রেখেছি। পার্সেল সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বলছে, মালগুলো বৈধ। তাহলে কাগজপত্র সহ মালিকরা আসুক। তারা সঠিক হলে মাল নিয়ে যাবে নয়তো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।