চান্দিনায় সাংবাদিকদের হাতকড়া পরানোর ঘটনায় এসিল্যান্ড প্রত্যাহার

কুমিল্লার চান্দিনায় দুই সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পড়ানোর ঘটনায় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জাকির হোসেন, চান্দিনা (কুমিল্লা)

Location :

Chandina
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূর প্রত্যাহার
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূর প্রত্যাহার |নয়া দিগন্ত

কুমিল্লার চান্দিনায় দুই সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পড়ানোর ঘটনায় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো: বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে ওই তথ্য জানা যায়। প্রজ্ঞাপনের ওই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।

প্রজ্ঞাপনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে- চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নুরকে জনস্বার্থে চান্দিনা উপজেলা থেকে প্রত্যাহার পূর্বক সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে সিলেট বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার (১ এপ্রিল) দুপরে চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে নামজারী মামলার শুনানিকালে দেবীদ্বার উপজেলায় কর্মরত দুই সংবাদকর্মী তাদের এক আত্মীয়ের নামজারী মামলার চান্দিনায় আসেন। তাদের মধ্যে একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কক্ষে প্রবেশ করে সাংবাদিক পরিচয় না দিয়ে ভিডিও ধারণ করায় এসিল্যান্ডের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে এসিল্যান্ড পুলিশ খবর দিয়ে তাদের হাতে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যান। পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে থানায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন- দৈনিক মানবজমিনের দেবীদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার এবং ফেস দ্য পিপলের দেবিদ্বার প্রতিনিধি আব্দুল আলিম।

সাংবাদিক আব্দুল আলিম বলেন- তার খালাতো বোনের নামজারি নিয়ে এক বছর ধরে ঘোরাচ্ছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূর। বুধবার ওই নামজারির শুনানির দিন ছিল। তাকে তিন দিন আগে তার খালাতো বোন ফোন করে উপস্থিত থাকতে বলেন।

তিনি মানবজমিনের প্রতিনিধি রাসেলকে নিয়ে বেলা ১১টার দিকে ভূমি অফিসে যান। আমি কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর এসিল্যান্ডের কক্ষে প্রবেশ করে ভিডিও ধারণ করলে এসিল্যান্ড আমার সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে পুলিশ খবর দিয়ে আমাদের হাতে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যান। থানায় নেয়ার পর তার কাছ থেকে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সব ছবি এবং ভিডিও ডিলিট করে দেন। পরে মুচলেকা দিয়ে আমরা ছাড়া পাই।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। পরে শুনলাম রাতে তাকে বদলি করা হয়েছে।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, আমি প্রত্যাহারের বিষয়টি শুনেছি তবে এখনও নথিটি দেখিনি।