বাগেরহাটের শরণখোলায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে আবু হানিফ হাওলাদার (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মধ্য রাজৈর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিতে গুরুতর জখম হন তিনি। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও উন্নত চিকিৎসার অভাবে সকাল ১০টার দিকে শরণখোলা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতাল থেকে লাশটি উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
নিহত আবু হানিফ খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মধ্য রাজৈর গ্রামের আমজাদ হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবেশী চাচাত ভাই বাবুল হাওলাদারের (সুতা বাবুল) সাথে জমিজমা নিয়ে আবু হানিফের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে প্রায়ই উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকত। ঘটনার দিন (শুক্রবার) সকালে আবু হানিফ রাগান্বিত হয়ে বাবুল হাওলাদারের বাড়ির সীমানার বেড়া ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় বাবুলের বড় ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৩০) ও ছোট ছেলে কলেজছাত্র রাফি (১৭) বেড়া ভাঙচুরে বাধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি হয়।
সেই মুহুর্তে কলেজছাত্র রাফি তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে হানিফকে কোপ দেয়। সেই কোপ ফেরাতে গিয়ে বাম হাতের কব্জিতে লেগে গুরুতর জখম হন হানিফ। জখম হাত নিয়ে তিনি হাসপাতালে না গিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তা আশপাশের লোকজনকে দেখাতে থাকেন। এভাবে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার একপর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি নিজেই হাসপাতালে যান।
হাসপাতালে যাওয়ার পর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তার সাথে স্বজনরা কেউ না থাকায় উন্নত চিকিৎসার অভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান তিনি।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: নওশীন রিজওয়ানা জানান, হাড়সহ হাতের কব্জি গুরুতর জখম অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে হানিফ নামে একজন একা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। দ্রুত তার রক্তক্ষরণ বন্ধ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু আহত ব্যক্তির সাথে তার কোনো আত্মীয়-স্বজনকে পাওয়া যায়নি। উন্নত চিকিৎসার অভাবে সকাল ১০টার দিকে শরণখোলা হাসপাতালেই মারা যান হানিফ। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শামিনুল হক বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জানান, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে ঘটনায় জড়িতরা পলাতক থাকায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তাদের আটকে অভিযান চালানো হচ্ছে।



