গজারিয়ায় তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা : ৪ আসামির দায় স্বীকার

রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুন্সীগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ

Location :

Munshiganj
মুন্সীগঞ্জে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার চার আসামি
মুন্সীগঞ্জে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার চার আসামি |নয়া দিগন্ত

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় গ্রেফতার চার আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুন্সীগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৯ মে গজারিয়া নৌ পুলিশ ফুলদী নদী থেকে এক অজ্ঞাতনামা তরুণীর লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। লাশে পচন ধরায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্রের সহায়তায় নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। নিহত তরুণীর নাম হালিমা আক্তার (১৯)। তিনি গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে পিবিআই স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, তদন্তে আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), আলামিন প্রধান (৫০) ও রাসেল মিয়াকে (৪৪) অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, আবু কালামের প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেলের কাছে ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন নিহত হালিমা আক্তার। এছাড়া আসামি জামালের সাথে ভিকটিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। তারা তিনজন মাঝে মধ্যে তরুণীর কাছ থেকে টাকা ধার নিতো, কিন্তু ওই টাকা ফেরত দিতো না। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি অন্যদের কাছে প্রকাশ পেলে সামাজিকভাবে মানহানি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পিবিআই জানায়, ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে চার আসামি মিলে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৬ মে সন্ধ্যার পর কৌশলে হালিমাকে বড় ভাটেরচর এলাকার নদীর পাড়ে ডেকে নেয়া হয়। পরে নৌকাযোগে নদীর ওপারে একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর গলায় পোশাক পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর অভিযুক্তরা লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেয়।

পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তদন্তে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সাথে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা, সে বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।