চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় দেদারসে কাটা হচ্ছিল পাহাড়। পাশের ঘরবাড়ি পড়েছিল হুমকির মুখে। প্রশাসনের কাছে বারবার ধর্না দিয়েও মেলেনি সমাধান।
এ নিয়ে গত ২৮ মার্চ ‘লোহাগাড়ায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি’ শিরোনামে নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে টনক নড়েছে বন বিভাগের।
গত বৃহস্পতিবার চুনতি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল আজিজ বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
আসামিরা হলেন লোহাগাড়া থানার পুটিবিলা ইউনিয়নের বাসিন্দা আহমদ কবিরের ছেলে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং মোহাম্মদ কফিল উদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫ জন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পাহাড়ী জায়গা থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনার সময় ঘটনাস্থলে মাটি কাটার সাথে সম্পৃক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ জসিম এবং মোহাম্মদ কফিল উদ্দিনের নাম উঠে আসে।
এছাড়াও লোহাগাড়ার প্রায় শতাধিক স্থানে জমির টপসয়েল সহ পাহাড়, টিলা কেটে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য কঠোর হুশিয়ারি দেয়ার পরও থামছে না মাটি কাটা।
অনেকর দাবি গত ২০ বছরেও এমন নিয়ন্ত্রণহীন মাটি কাটার নজির নেই। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু করে পরদিন ভোর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলে মাটি কাটার হিড়িক। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা না মেনেই প্রতিদিন শতাধিক স্থানে প্রায় পাঁচ শতাধিক ডাম্প ট্রাকে পরিবহন করা হয় এসব মাটি।
লোহাগাড়া উপজেলায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে ফসল উৎপাদন হয়। অথচ একটি চক্র নির্বিঘ্নে কেটে নিচ্ছে এসব ফসলি জমি। এতে হুমকির মুখে কৃষিব্যবস্থাও।
বিশেষ করে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়ন, পুটিভিলা ইউনিয়ন, পদুয়া ইউনিয়ন, বড়হাতিয়া ইউনিয়ন, চুনতি ইউনিয়নে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি চক্র মাটি কাটার সাথে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
প্রশাসন লোক দেখানো অভিযানে যে গাড়ি গুলো জব্দ করেন সেগুলো নামমাত্র জরিমানা করে ছেড়ে দেন এবং সেই গাড়িগুলোই আবারও গিয়ে মাটি কাটে।
জরিমানার বিষয়ে অধিকাংশ সময়ই সংবাদমাধ্যমকে দেয়া হয় না কোনো তথ্য। তথ্য চাইলে পুরো মাসেরটা একসাথে দেয়ার কথা বলেন এড়িয়ে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম।



