মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ময়লার স্তুপ পড়ে আছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মাত্র ২৫ ফুট দুরাত্বে দেয়াল ঘেষেঁই গড়ে উঠেছে স্থায়ী ময়লার ভাগাড় এবং অযত্নে পড়ে থাকা অপরিচ্ছন্ন হাসপাতালের পিছনেরও একই অবস্থা। ময়লা ফেলার জন্য হাসপাতালের পিছনে ব্যবস্থাপনা থাকলেও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে তাই পরিছন্নতা কর্মীদের দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
এমন পরিবেশেই মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা।
গ্রামাঞ্চলের অসহায় দরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী বেতাগী উপজেলার রোগিরাও ছুটে আসছেন ৫০ শয্যা এ হাসপাতালটিতে।
রোগীদের অভিযোগ, যেভাবে দিনকে দিন ময়লা ফেলা হচ্ছে তাতে ব্যাপক হারে মশার বংশ বিস্তারসহ ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের ফলে এখানে আগতদের মধ্যে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন বায়ুবাহিত রোগবালাই ছড়ানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাও নতুন করে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের যাবতীয় ময়লা আবর্জনা ফেলা হয় এই দুইটি জায়গাটিতে। এতে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে তেমনি ময়লা পঁচে গিয়ে দুগার্ন্ধসহ নানা রোগের সৃষ্টি করছে। যার ফলে হাসপাতালের ভেতরে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ তৈরি করে পরিবেশ দূষণের পরিমাণ বহুগুণে বৃদ্ধি করছে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানায়, তবে উপজেলাটি পৌরসভা না থাকায় পৗর শহরে সুবিধা নেই এখানে। হাসপাতালের চারপাশ পরিস্কার পরিছন্ন থাকবে অথচ সেখানে ময়লা স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। তাই এ অবস্থায় বাড়তি দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে যত্রতত্র আবর্জনার ভাগাড়।
উপজেলা মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মির্জাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩২ জন ভর্তি হয়েছেন। রিলিস হয়ে গেছে ৩৪ জন রোগী, হাসপাতলে মোট ভর্তিকৃত রোগী ৮৬ জন। এরমধ্যে হাম নয়জন রোগী ও জন ডায়রিয়া তিনজন রোগী ভর্তি আছে। ফলে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ডাক্তারা রোগীদের ভীর সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন। ৫০ শয্যা হাসপাতালে ৮৬ জন রোগী ভর্তি আছে। রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে হাসপাতালের বারান্দায় কিংবা মেছেতে বসে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: প্রশান্ত কুমার সাহার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘হাসপাতাল সামনে থাকা এই জায়গাটি ময়লার স্তূপে পরিণত হওয়ায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীসহ জনসাধারণ। তাই হাসপাতালের ময়লা ফেলার নিদিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ময়লার কারনে পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয় সে লক্ষে আমাদের কাজ চলমান আছে।
মির্জাগঞ্জ হাসপাতালে দেড় থেকে দুই শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে আমাদের। ৫০ শয্যা হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগী ভর্তিসহ অতিরিক্ত রোগিকে সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।



