নবাবগঞ্জে মালি আমিনুলের নামে কোটি টাকার সম্পদ, অনিয়মের অভিযোগ

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে বন বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ বাণিজ্যের সাথে জড়িত রয়েছেন আমিনুল ইসলাম।

Location :

Nawabganj
নবাবগঞ্জে মালি আমিনুলের নামে কোটি টাকার সম্পদ, অনিয়মের অভিযোগ
নবাবগঞ্জে মালি আমিনুলের নামে কোটি টাকার সম্পদ, অনিয়মের অভিযোগ |নয়া দিগন্ত

মো: ইয়ামিন সরকার, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর)

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার হরিপুর বিট অফিসের একজন সাধারণ মালি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত ২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) স্থানীয় এলাকাবাসী ও বন বিভাগের উপকারভোগীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বন বিভাগকে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে বন বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ বাণিজ্যের সাথে জড়িত রয়েছেন আমিনুল ইসলাম।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, একজন সাধারণ মালি হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয় কিভাবে। এলাকায় তার কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। অথচ চাকরির বাইরে তার দৃশ্যমান কোনো বৈধ আয়ের উৎস নেই।

অভিযোগকারীরা আরো বলেন, বন বিভাগের জমি অবৈধভাবে দখল করে দেয়ার বিনিময়ে দখলদারদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতেন তিনি।

শুধু তাই নয়, বন বিভাগের সৃজনকৃত বাগানের উপকারভোগী তালিকা তৈরির সময় প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে নিজের ঘনিষ্ঠ ও আত্মীয়স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একটি পক্ষ আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে।’

এ বিষয়ে হরিপুর বিট কর্মকর্তা সামছুল হক বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি রেঞ্জ কর্মকর্তা গত শনিবার (৯ মে) তদন্ত করেছেন। সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিবেন।

বিরামপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে গত শনিবার প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। পুনরায় তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’