নেতাই নদীর বাঁধে ভাঙন

দুশ্চিন্তায় শতাধিক কৃষক, ঝুঁকিতে বোরো আবাদ

উপজেলার ঘোষবেড়, দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব সোহাগীপাড়া ও কলসিন্দুর গুদারাঘাট এলাকায় বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
নদীর বাঁধ ভাঙন
নদীর বাঁধ ভাঙন |নয়া দিগন্ত

চৈত্র মাসেই কালবৈশাখী ঝড়, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার নেতাই নদীর বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বোরো মৌসুমের ধানসহ বিভিন্ন ফসল নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কয়েক শতাধিক কৃষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঘোষবেড়, দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব সোহাগীপাড়া ও কলসিন্দুর গুদারাঘাট এলাকায় বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে সোহাগীপাড়া রহমতের বাজার এলাকায় রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির একটি ড্রেন বন্ধ থাকায় শুক্রবার পাহাড়ি ঢলের পানি সরাসরি ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে। পানির তীব্র চাপে সেখানে প্রায় ২০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। একইভাবে গামারীতলা ইউনিয়নের কয়েক স্থানেও বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং আরো বেশ কিছু এলাকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রাবার ড্যামের অব্যবস্থাপনার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অন্তত ১০টি গ্রামের বোরো ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

সোহাগীপাড়া গ্রামের কৃষক রতন মিয়া বলেন, ‘বোরো আবাদে পানি নিতে আগেই বাঁধ কাটা হয়েছিল। হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে পানি বাড়ায় ওই জায়গা দিয়েই ভাঙন ধরেছে। দ্রুত মেরামত না করলে অনেক কৃষকের সর্বনাশ হবে।’

আরেক কৃষক রশিদ মিয়া বলেন, ‘আগে থেইকা যদি বাঁধ ঠিক রাখত, এ ভাঙন হইত না। এখন ক্ষেতে পানি উঠছে, ফসল নষ্ট হওয়ার ভয় আছে।’

ঘোষগাঁও এলাকার কৃষক আলী আকবর বলেন, ‘চৈত্র মাসে এমন ঢল কোনোদিন দেখি নাই। এবার নদীপাড়ের মানুষ খুব দুশ্চিন্তায় আছে।’

এ বিষয়ে দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘রাবার ড্যাম কর্তৃপক্ষ সময়মতো পানি নিয়ন্ত্রণ না করায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত মেরামত না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।’

তবে রণসিংহপুর রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম ভিন্ন কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার কৃষক সেচ সুবিধা পাচ্ছেন। হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নামায় দ্রুত পানি ছাড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু অতিরিক্ত চাপের কারণে চ্যানেলের পাড় ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য আলোচনা চলছে।’

এ অবস্থায় কৃষকদের একমাত্র দাবি—দ্রুত বাঁধ মেরামত ও কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। না হলে চলতি মৌসুমে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।