মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

চলনবিলের ঐতিহ্য ফেরাতে মৎস্য সংরক্ষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হবে

‘আমাদের দেশ সম্পদে ভরপুর। চলনবিলসহ দেশের মুক্ত জলাশয়গুলোতে উৎপাদিত মাছ দিয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করাই আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে সরকার কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু |সংগৃহীত

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, চলনবিলের হারানো ঐতিহ্য ও দেশীয় প্রজাতির মাছ ফিরিয়ে আনতে এ অঞ্চলে আধুনিক মৎস্য সংরক্ষণাগার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।

শনিবার (৯ মে) বিকেলে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বৃ-পাথুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মৎস্য চাষি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন, বাজার নীতি সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক রফতানি চেইন প্রতিস্থাপন’- শীর্ষক এ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারের নানা পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ সম্পদে ভরপুর। চলনবিলসহ দেশের মুক্ত জলাশয়গুলোতে উৎপাদিত মাছ দিয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করাই আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে সরকার কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ থেকে দেশকে সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তর করেছিলেন।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র উপহার দিয়েছেন এবং তাদেরই সুযোগ্য উত্তরসূরি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছেন। নির্বাচনের সকল প্রতিশ্রুতি সরকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে। উন্নয়নের এ ধারাকে সমুন্নত রাখতে সবার সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় ভারত থেকে যেন কোনো পশু অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সীমান্ত এলাকায় বিজিবিকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে চাহিদার তুলনায় ২২ লাখেরও বেশি পশু অতিরিক্ত রয়েছে। ফলে দেশীয় খামারিরা যাতে লোকসানের মুখে না পড়েন, সেজন্য সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

তিনি বলেন, নাটোরের চলনবিল ও হালতি বিলসহ দেশের মুক্ত জলাশয়গুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতের মাধ্যমে মৎস্য চাষে নতুন বিপ্লব ঘটানো হবে। দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি, সংরক্ষণ এবং উন্নত বাজারজাতকরণে নেয়া হবে বিশেষ উদ্যোগ।

এছাড়া, মৎস্য চাষিদের আধুনিক ও উন্নত প্রশিক্ষণের আওতায় এনে দেশে আমিষের ঘাটতি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: জিয়া হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ এবং নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। বাসস