৭০তম সাহিত্যসভা ও ঈদ পুনর্মিলনী

কবি সাহিত্যিকদের কলমকে সংগ্রামের হাতিয়ারে পরিণত করতে হবে: কবি হাসান আলীম

প্রধান অতিথি কবি হাসান আলীম বিভিন্ন প্রখ্যাত কবির সাহিত্যকর্ম পর্যালোচনা করেন এবং কবি-লেখকদের জন্য দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি কবিতা লেখার কলাকৌশল নিয়েও আলোচনা করেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সৃজনধারা-বিসিএ’র ৭০তম সাহিত্যসভা ও ঈদ পুনর্মিলনী শনিবার অনুষ্ঠিত হয়
সৃজনধারা-বিসিএ’র ৭০তম সাহিত্যসভা ও ঈদ পুনর্মিলনী শনিবার অনুষ্ঠিত হয় |সংগৃহীত

‘কবিতা বাংলাদেশ’-এর সহসভাপতি কবি হাসান আলীম বলেছেন, সৃজনশীলতা ও সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশের পথে ভোগবাদী ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বাধা দূর করতে কবি-সাহিত্যিকদের কলমকে সংগ্রামের হাতিয়ারে পরিণত করতে হবে।

তিনি শনিবার (৪ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত সৃজনধারা-বিসিএ’র ৭০তম সাহিত্যসভা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির সভাপতি আবেদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান কবি সোলায়মান আহসান ও নয়া দিগন্তের সাহিত্য সম্পাদক কবি জাকির আবু জাফর। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন কবি নাসির হেলাল, কবি ও গবেষক ড. ইয়াহইয়া মান্নান, কথাসাহিত্যিক নাসীমুল বারী এবং কবি আতিক হেলাল। স্বাগত বক্তব্য দেন বিসিএ’র সেক্রেটারি কবি ইবরাহীম বাহারী।

কবি নাঈম আল ইসলাম মাহিনের উপস্থাপনায় হাফেজ শেখ আনাসের কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে নবীন-প্রবীণ অসংখ্য কবি-লেখক স্বরচিত কবিতা ও সাহিত্য পাঠে অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন কবি ইবরাহীম বাহারী, সাংবাদিক হারুন ইবনে শাহাদাত, কবি মুন্সি বোরহান মাহমুদ, কবি আর কে শাব্বীর আহমদ, কবি রবিউল মাশরাফি, কবি আমিনুল ইসলাম, কবি রফিক উল আলম, কবি তাজ ইসলাম, কবি শাহীন সৈকত, ড. মনসুর ফিরোজী, কবি শেখ বিপ্লব হোসেন, কবি আরিফ হোসেন সবুজ, কবি রবিউল খন্দকার, কবি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, কবি শাহজাহান সানু, ডা. জাহিদ হোসেন, কবি রহমান মাজিদ, কবি রানা হামিদ, কবি নোমান সাদিক, কবি সাইফ আলী, কবি সাগর হাওলাদার, কবি আবদুল্লাহ আল হাসিব, ড. এমদাদুল হক হেলালী, কবি স্বরেয়া কাদির, কবি শহীদ সিরাজীসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে পুথি পাঠ করেন কবি জালাল খান ইউসুফী। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মিরাদুল মুনিম, শোয়াইব আহমেদ ও তাদের সঙ্গীরা।

প্রধান অতিথি কবি হাসান আলীম বিভিন্ন প্রখ্যাত কবির সাহিত্যকর্ম পর্যালোচনা করেন এবং কবি-লেখকদের জন্য দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি কবিতা লেখার কলাকৌশল নিয়েও আলোচনা করেন। বিশেষ অতিথি কবি সোলায়মান আহসান বক্তব্যে নিজের কবি হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং কবিতা পাঠ করেন। কবি জাকির আবু জাফর কবিতার আদি ইতিহাস, ইসলামী কবিদের সাহিত্যধারা ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে ড. ইয়াহইয়া মান্নান, কবি আতিক হেলাল, কবি নাসির হেলাল, কথাসাহিত্যিক নাসীমুল বারী, কবি মুর্শিদ উল আলম ও সুলতান মাহমুদ বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশে এ ধরনের সাহিত্যসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ সময় ২০২৬ সালের বইমেলায় প্রকাশিত কয়েকজন কবি-লেখকের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। মোড়ক উন্মোচিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে— হারুন ইবনে শাহাদাতের অপারেশন মাসাদা (কিশোর থ্রিলার), শাহীন সৈকতের জলের শব্দে তোমার ঘ্রাণ (কাব্যগ্রন্থ), আর কে শাব্বীর আহমেদের বেলা ডোবার আগে (আত্মসচেতনতামূলক গ্রন্থ) এবং শহীদ সিরাজীর চেয়ে চেয়ে দেখছি (কাব্যগ্রন্থ)।

সভাপতির বক্তব্যে আবেদুর রহমান সুস্থ সংস্কৃতি চর্চায় সৃজনধারার বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন এবং সকলকে এতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিসিএ’র সাহিত্য সম্পাদক কবি শহীদ সিরাজী। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল কবি-লেখক ও অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। শেষে নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।