কূটনৈতিক প্রতিবেদক
কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে আইনি এবং রাজনৈতিক ভিত্তি দিতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ) সই করতে যাচ্ছে। আগামী ২০ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ব্রাসেলস সফরের সময় এই চুক্তি সই হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্ক হয়ে ব্রাসেলস যাবেন। তুরস্কে তিন দিনব্যাপী আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে তিনি অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের উদ্যোগে আগামী ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল আন্টালিয়ায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে পিসিএ সই করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, খাদ্যনিরাপত্তা, জ্বালানি, পরিবহন, মানবাধিকার ও সুশাসন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন নীতিগত ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে সহায়তা করবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ইইউর সাথে পিসিএ সই করছে।
বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে পিসিএ নিয়ে আলোচনা ২০২৪ সালের নভেম্বরে ঢাকায় শুরু হয়েছিল। এরপর দুই পক্ষ ঢাকা ও ব্রাসেলসে পাঁচ দফা আলোচনা ও বেশ কয়েকটি কারিগরি বৈঠকে অংশ নেয়। ঢাকায় গত জানুয়ারিতে পঞ্চম দফায় আলোচনায় বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবাধিকার, শুল্ক সহযোগিতা, আইনি ও বিচার বিভাগীয় সহযোগিতা, মেধাস্বত্ব অধিকার, জ্বালানি সহযোগিতা ইত্যাদি। সফল আলোচনার পর উভয় পক্ষ পিসিএ নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছে। গতকাল ঢাকায় ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। এতে খলিলুর রহমানের আসন্ন ব্রাসেলস সফরে পিসিএ সইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তুরস্ক সফর : বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের এটি দ্বিতীয় তুরস্ক সফর। এর আগে জাতিসঙ্ঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি পদের নির্বাচনে নিজ প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ১৩ মার্চ তুরস্ক যান। আন্টালিয়া সম্মেলনের সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের সুযোগটিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারণার জন্য কাজে লাগাবেন। আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম কূটনীতিকদের উচ্চ পর্যায়ের একটি সম্মেলন। ২১টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, ৫২টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা এতে অংশ নেবেন। বিভিন্ন দেশের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি সেতু হিসেবে কাজ করে এই সম্মেলন।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য বাধা এবং বহুপক্ষীয়র ওপর ক্রমাগত চাপে বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এই সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে। এই বছরের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘ম্যাপিং-টুমরো, ম্যানেজিং আনসারটেইনিটিস’। আগামী ১৭ এপ্রিল এই সম্মেলনের উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেবন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। এরপর প্যানেল আলোচনায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখবেন।



