জরুরি সেবার যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিতে বাধা

জ্বালানি তেলের দীর্ঘ লাইন

দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত তেল না পাওয়ায় উগ্র আচরণ করছেন দীর্ঘক্ষণ লাইনে থাকা গ্রাহকরা। বিশেষ করে রাইড শেয়ারিংয়ে জড়িত বাইকারদের মধ্যে এমন আচরণ দেখা যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি সেবার যানবাহনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হলেও তাতে বাধা দিচ্ছে সাধারণ গ্রাহকরা। তারা জরুরি সেবার যানবাহন অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, কারাগারের যানবাহন কাউকেই বিশেষ সুবিধায় তেল নিতে দিচ্ছেন না। উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন সরকারি কর্মকর্তাদের জ্বালানি তেলসংক্রান্ত বক্তব্যে। না বুঝে কোথাও কোথাও চড়াও হচ্ছে সাংবাদিকদের ওপরও।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
জ্বালানি সঙ্কটে দেশের বিভিন্ন পাম্পে প্রতিদিনই লেগে থাকে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। গতকাল রাজধানীর একটি পেট্রল পাম্প থেকে তোলা ছবি  : নয়া দিগন্ত
জ্বালানি সঙ্কটে দেশের বিভিন্ন পাম্পে প্রতিদিনই লেগে থাকে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। গতকাল রাজধানীর একটি পেট্রল পাম্প থেকে তোলা ছবি : নয়া দিগন্ত

দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কাক্সিক্ষত তেল না পাওয়ায় উগ্র আচরণ করছেন দীর্ঘক্ষণ লাইনে থাকা গ্রাহকরা। বিশেষ করে রাইড শেয়ারিংয়ে জড়িত বাইকারদের মধ্যে এমন আচরণ দেখা যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি সেবার যানবাহনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হলেও তাতে বাধা দিচ্ছে সাধারণ গ্রাহকরা। তারা জরুরি সেবার যানবাহন অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, কারাগারের যানবাহন কাউকেই বিশেষ সুবিধায় তেল নিতে দিচ্ছেন না। উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন সরকারি কর্মকর্তাদের জ্বালানি তেলসংক্রান্ত বক্তব্যে। না বুঝে কোথাও কোথাও চড়াও হচ্ছে সাংবাদিকদের ওপরও।

গতকাল সরেজমিন বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। দিন যত গড়াচ্ছে দীর্ঘ হচ্ছে, তেলপ্রত্যাশীদের লাইন। তেলের জন্য ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেককে। খাওয়া, প্রাকৃতিক কাজকর্ম, রাত্রিযাপন সবই করতে হচ্ছে রাস্তায়।

রমনা পেট্রলপাম্পে জরুরি সেবার যানবাহনগুলোতে বিশেষ সুবিধায় জ্বালানি দেয়ার ব্যবস্থা রেখেছিলো কর্তৃপক্ষ; কিন্তু সম্প্রতি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ গ্রাহকরা তাতে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে মাঝেমধ্যেই হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে। অনেকেই বলছেন, রোদ-বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ সময় লাইনে থেকে অসহিষ্ণু হয়ে উঠছেন অনেক গ্রাহক। তারা অল্পতেই ক্ষিপ্ত হয়ে একে-অপরের ওপর চড়াও হচ্ছে।

আরমান হোসেন নামে একজন গ্রাহক বলেন, সরকার তেল নিয়ে জনগণের সাথে তামাশা করছে। তাদের বক্তব্যের সাথে পাম্প কর্তৃপক্ষের কাজের কোনো মিল নেই। উল্টো গ্রাহকদের লাইন আরো দীর্ঘ হচ্ছে। তিনি বলেন, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এক-দুই ঘণ্টা নয়, ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলে কোন মানুষটি সুস্থ থাকবে বলেন। তার আচরণ কিভাবে স্বাভাবিক হবে। এভাবে চলতে থাকলে এ তেলের জন্য খুনাখুনিও হয়ে যেতে পারে। হারুন নামে একজন বলেন, সরকার যা বলে সাংবাদিকরা শুধু তাই লেখেন। আমাদের দুর্ভোগের চিত্র সরকার দেখতে পারে না।

রাইড শেয়ারিং মটরসাইকেল চালক আলম বলেন, আমাদের অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই। এ মটরসাইকেল দিয়ে রাইড শেয়ার করে জীবিকানির্বাহ করি। তেলের আভাবে যদি মটরসাইকেল চালাতে না পারি তাহলে খাবো কী?। পরিবার বাঁচাবো কিভাবে। পরিবারের সদস্যদের মুখের দিকে তাকিয়ে শত কষ্ট সহ্য করে তেলের অপেক্ষায় থাকি। কিন্তু তেল পাওয়া না গেলে আমাদের রাইড শেয়ার বন্ধ হয়ে যাবে। বেকার হয়ে পড়বো আমরা। জসিম উদ্দিন বলেন, অনেক তেল একসাথে নেয়ার পয়সা রাইড শেয়ারিংয়ের লোকদের থাকে না। তারা ৫০ টাকার তেলও নিয়ে থাকে। কখনো কখনো পকেটে টাকা না থাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েও তেল কিনতে হয়; কিন্তু সঙ্কট দেখা দিলে না খেয়ে থাকতে হবে।

এ দিকে জরুরি সেবা কার্যক্রম নির্বিঘœ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কারাগার-সংশ্লিষ্ট যানবাহনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল দিতে পাম্পগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ১৫ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো: হাফিজ-আল-আসাদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। গতকাল শনিবার মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, কারাগারের বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে দিন-রাত যেকোনো সময় বন্দী স্থানান্তর, অসুস্থ বন্দীকে হাসপাতালে পাঠানো ও দাফতরিক কাজে যানবাহন ব্যবহার করতে হয়। একইভাবে অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত টহল ও বিভিন্ন বিশেষ অভিযান পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহন সার্বক্ষণিক সচল রাখা অত্যাবশ্যক। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এবং কারা অধিদফতরের যানবাহনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশের সব পেট্রলপাম্পকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।