রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় সাত বছরের এক শিশুর অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তির করানোর দায়ে তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ডসহ মোট পাঁচজনকে সাজা দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো: মশিউর রহমান এই রায় দেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। আসামিদের স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সালাউদ্দিন, মো: শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া এবং খন্দকার ওমর ফারুক। বয়স বিবেচনায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন মো: রমজান ও সাদ্দাম।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শরিফুল ইসলাম ও খন্দকার ওমর ফারুক কারাগারে আছেন। অন্য সবাই পলাতক। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ৬ মে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে সাত বছরের শিশুকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান আসামিরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিশুটিকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করতে নির্জন স্থানে নিয়ে তার লিঙ্গ কর্তন করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন।
পরে শিশুটির মা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ওই নারী কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি মামলা করেন।
পরে ২০১১ সালের ১৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১-এর সহকারী পরিচালক এএসপি মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলাটির বিচার চলাকালে ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।



