বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইসলাদি গুপ্তের খাল দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। দখল ও দূষণের কারণে খালটি আজ মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। ফলে বিপন্ন হচ্ছে কৃষিজমি, স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা।
আজ রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যা নদী থেকে শিকারপুর জি.জি. মাধ্যমিক বিদ্যালয় হয়ে ইসলাদি থেকে উপজেলা চত্বর দক্ষিণ মাদরাসি গ্রাম হয়ে আবার সন্ধ্যা নদীতে মিলিত হয়েছে এ খাল। জনগুরুত্বপূর্ণ এ খালটি স্থানীয়ভাবে ‘গুপ্তর উপজেলা খাল’ নামে পরিচিত। শীতকালে খালটি পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। বোরো মৌসুমে প্রায় ২০ হেক্টর জমির আবাদ এ খালের পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পানি সঙ্কটের কারণে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং অনেকেই জমি অনাবাদি রেখে দিচ্ছেন।
সূত্রে জানা গেছে, এ খালের ওপর নির্ভর করে অতীতে বিপুল সংখ্যক মৎস্যজীবী মানুষ তাদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতেন। এ খালে পাওয়া যেত শতেক প্রজাতির দেশীর মাছ। স্রোতহীন খালটি আজ খননের অভাবে মরে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কপিল বিশ্বাস বলেন, গুপ্তর ও উপজেলা খালে মূলত সন্ধ্যা নদী থেকে পানি প্রবেশ করে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানির স্তর নিচে নেমে গেলে খালে পানি প্রবেশ করে না। অসংখ্য চাষিরা জানিয়েছেন প্রতি ২০ শতক জমি চাষ করতে পানি সেচ বাবদ তিন শতক জমির ধান দিতে হয় ব্লক ম্যানেজারকে। বাজারে ধানের দামের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে জমি চাষাবাদ থেকে ফিরে আসছেন। ফলে প্রতি বছরই অনাবাদি জমির সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।
খাল খননের প্রকল্প বিষয় তার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু কবে নাগাদ
জনগুরুত্বপূর্ণ এ খাল খননের প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না কোনো কর্মকর্তা।
কৃষি নির্ভর এ জনপদের প্রান্তিক চাষি থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ জনগুরুত্বপূর্ণ খালটিকে দখল ও দূষণমুক্তর কবল থেকে রক্ষা করে জরুরি ভিত্তিতে খননের মাধ্যমে নাব্যতা সঙ্কট দূর করে পানি প্রবাহ নিশ্চিতের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলী সুজা বলেন, আমরা সেচ কাজে ভূ-পৃষ্ঠের পানি ব্যবহার করে থাকি। শীতকালে বোরো ধান চাষে পুরোটাই সেচ নির্ভর ফসল। তাছাড়া অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও বৃষ্টিপাত কম হলে সেচের প্রয়োজন হয়। ভূ-পৃষ্ঠের পানি ব্যবহারে সেচ খরচ কম হয়।
তিনি আরো বলেন, উপজেলায় অনেকগুলো জনগুরুত্বপূর্ণ খাল খননের ব্যাপারে ইতোমধ্যে সংশ্লিস্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত এসব খাল খননের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।



