সন্ধ্যা নদীর তীরে ট্রলারঘাটে সিঁড়ি নেই, ঝুঁকি নিয়ে উঠানামা যাত্রীদের

প্ল্যাটফর্ম বা উঠানামার সিঁড়ি না থাকার ফলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে কর্দমাক্ত ঢালু পাড় দিয়ে বা নৌকার ওপর থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠানামা করছে।

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

Location :

Kaukhali
ঝুঁকি নিয়ে উঠানামা যাত্রীদের
ঝুঁকি নিয়ে উঠানামা যাত্রীদের |নয়া দিগন্ত

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা নদীর তীরে অবস্থিত কাউখালী লঞ্চ ঘাট সংলগ্ন ট্রলারঘাটে কোনো স্থায়ী সিঁড়ি বা সুব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। উপজেলার কাউখালী লঞ্চঘাট ও ব্রাহ্মণ চিত্রা খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করলেও একটি স্থায়ী ট্রলার ঘাটের অভাবে ভোগান্তি যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাউখালী লঞ্চ ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ট্রলার ভেড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্ল্যাটফর্ম বা উঠানামার সিঁড়ি নেই। ফলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে কর্দমাক্ত ঢালু পাড় দিয়ে বা নৌকার ওপর থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠানামা করছে।

শিশু, বৃদ্ধ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাসহ অসুস্থ রোগীরা সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়ছেন। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য শহরে নেয়ার পথে এই ঘাটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ট্রলারে করে মালামাল আনা-নেয়া করেন। কিন্তু সিঁড়ি না থাকায় মালামাল ওঠাতে-নামাতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।

কাউখালী ও ব্রাহ্মণ চিত্রা খেয়াঘাট দিয়ে যাতায়াতকারী কয়েকজন যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের প্রতিদিনের যাতায়াত এই পথে। বর্ষাকালে কাদার জন্য চলা যায় না, আর জোয়ার-ভাটায় ওঠা-নামা করা অনেকটা যুদ্ধের মতো। এখানে একটি স্থায়ী পাকা ঘাট নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।

সন্ধ্যা নদীর উত্তাল ঢেউ আর বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে যেকোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একটি স্থায়ী ট্রলার ঘাট নির্মাণ করা হলে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে।

টলার চালক রিপন সরদার ও নাসির উদ্দিন বলেন, এখানে স্থায়ী ট্রলার ঘাট না থাকায় যাত্রীদের ওঠা নামায় খুবই সমস্যা হচ্ছে।

ইজারাদার মো: আলাউদ্দিন বলেন, ‘স্থায়ী কোনো টেকসই ঘাট না থাকায় এই ঘাট থেকে ছয়টি গ্রামের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে উঠানামা করে।’

এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। বরাদ্দ আসলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Topics