দেশে এক দশকে বজ্রপাতে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য দিচ্ছে সরকারি সূত্রগুলো। ১০ বছর আগে এটিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও প্রাণহানি থেমে নেই। এখনো প্রায় প্রতি বছরই দেশে শতাধিক মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারাচ্ছেন।
সাধারণত মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বজ্রঝড়-বজ্রপাত হয় এবং এই দুর্যোগ সবচেয়ে বেশি হয় দেশের উত্তর-পূর্ব দিকের অঞ্চল সিলেটে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে সিলেটেই।
সর্বশেষ গত ২৬ এপ্রিল দেশের কয়েকটি জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এক দশকে মৃত্যু সাড়ে তিন হাজারের বেশি
পত্রপত্রিকা খুললেই বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর দেখা যায়। কিন্তু বজ্রপাতে মৃত্যুর হার ঠিক কত, আগে তা হিসাব করা হতো না। তবে ২০১৫ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে অন্যান্য দুর্যোগে প্রাণহানির তথ্যের পাশাপাশি এই তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মাঝে বাংলাদেশে বজ্রপাতে মারা গেছে মোট তিন হাজার ৬৫৮ জন।
বজ্রপাতে মৃত্যুর সেই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত এক দশকে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে ওঠানামা করেছে এবং একটি সময় পর্যন্ত এর প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
এর মাঝে ২০১৫ সালে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২২৬ জন। পরের বছর ২০১৬ সালে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯১ জনে। ২০১৭ সালে কিছুটা কমে ৩৮৮ জন হলেও ২০১৮ সালে আরো কমে ৩৫৯ জনে নেমে আসে।
এরপর ২০১৯ সালে আবার বৃদ্ধি পেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০১ জনে এবং ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ৪২৭ জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ এই সময়টিতে বজ্রপাতজনিত মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।
তবে ২০২১ সাল থেকে ধীরে ধীরে বজ্রপাতে মৃত্যু কমার প্রবণতা দেখা যায়। ওই বছর ৩৬৩ জন, ২০২২ সালে ৩৩৭ জন এবং ২০২৩ সালে ৩২২ জনের মৃত্যু হয়।
২০২৪ সালে এটি আরো কমে ২৭১ জনে নেমে আসে এবং ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়ায় ১৭৩ জনে।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক এ প্রসঙ্গে বলেন, চলতি বছরেও এখন পর্যন্ত বজ্রপাতে ২৮ থেকে ৩০ জন মানুষ মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সামগ্রিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সালের পর থেকে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে।
এর পেছনে ২০১৯-২০২০ সাল থেকে বজ্রপাতের দুই- চার ঘণ্টা আগে আবহাওয়া অধিদফতর থেকে দেয়া আগাম সতর্কতা, সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ- ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে তিনি এটিও বলেন, পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার কারণে এটি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব না যে এখন বজ্রপাতে মারা যাওয়ার হার ২০১৫ সালের আগের সময়ের তুলনায় বেশি নাকি কম।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশের সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়। জেলার ভেতরে জামালগঞ্জ উপজেলাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।
গত এক দশকে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে এই উপজেলাতেই।
এর বাইরে নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মৌলভীবাজার, রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, বরিশালের খেপুপাড়াসহ আরো কিছু এলাকায় তুলনামূলক বেশি বজ্রপাত হয়।
মূলত, ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্যের কারণে সিলেটে বজ্রপাত বেশি ঘটে।
সর্বোচ্চ মৃত্যু সিলেটে, কোন কোন অঞ্চল ঝুঁকিপূর্ণ
এর ব্যাখ্যায় আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘জলীয় বাষ্প সমৃদ্ধ এলাকার আশপাশেই বজ্রপাত বেশি হয়। এক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চলে বড় বড় হাওড় রয়েছে, যা থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প তৈরি হয়। একইসাথে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প সমৃদ্ধ বাতাস দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে সিলেট অঞ্চলে প্রবেশ করে। এই আর্দ্র বাতাস সিলেটের উত্তর-পূর্ব দিকের পাহাড়ের সাথে সংঘর্ষে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দ্রুত উপরের দিকে উঠে যায়।’
এই উর্ধ্বগামী আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হলে মেঘ তৈরি হয়, বিশেষ করে কিউমুলোনিম্বাস বা বজ্রমেঘ। এই প্রক্রিয়াই বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
এছাড়া, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক ও গরম বাতাসের সাথে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বাতাসের সংঘর্ষও বজ্রপাতের একটি বড় কারণ।
এই দু’ধরনের বাতাসের মিলনস্থল হিসেবে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দেশের কিছু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি অঞ্চল এবং হিমালয়ের পাদদেশ ঘিরে যে আবহাওয়াগত ব্যবস্থা তৈরি হয়, তার প্রভাবও বাংলাদেশে পড়ে।
এসব অঞ্চল থেকে তৈরি হওয়া বজ্রমেঘ পশ্চিমবঙ্গ হয়ে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় প্রবেশ করে এবং স্থানীয় জলীয় বাষ্পের সাথে মিশে আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
সব মিলিয়ে, হাওড়ের জলীয় বাষ্প, পাহাড়ের বাধা এবং ভিন্ন ধরনের বায়ুপ্রবাহের সংঘর্ষ- এই তিনটি প্রধান কারণে সিলেট ও আশপাশের এলাকায় বজ্রপাতের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে বজ্রপাত দেশের প্রায় সব জেলাতেই প্রভাব ফেলেছে এবং আক্রান্ত জেলার সংখ্যা মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
২০১৫ সালে দেশের ৪৫টি ও ২০১৬ সালে ৫৭টি জেলায় বজ্রপাত হয়েছিল। ২০১৭ সালে জেলার সংখ্যা বেড়ে ৬০টিতে দাঁড়ালেও ২০১৮ সালে তা কিছুটা কমে ৫০-এ নেমে আসে।
এর পরের বছর দেশের ৫৬টি জেলায় বজ্রপাতের প্রভাব দেখা গেছে। আর ২০২০ সালে তো দেশের ৫৯টি জেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছিল এবং আহত হয়েছিলো ৮৮ জন।
এছাড়া, ২০২১ সালে ৫৭টি জেলায় ১২৪ জন, ২০২২ সালে ৫৮টি জেলায় ৮৭ জন, ২০২৩ সালে ৫৬টি জেলায় ৬১ জন, ২০২৪ সালে ৬৪টি জেলায় ৫৩ জন আহত হয়েছিল।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, বজ্রপাতের ভৌগোলিক বিস্তৃতি কমেনি, বরং কিছুটা বেড়েছে; তবে সাম্প্রতিক সময়ে আহতের সংখ্যা কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বছরের কোন সময় বজ্রঝড়, বজ্রপাত বেশি হয়?
বাংলাদেশের ৩৮ শতাংশ বজ্রসহ ঝড় হয় মার্চ, এপ্রিল ও মে (বৈশাখ) মাসে হয়। আর জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে (বর্ষাকাল) হয় ৫১ শতাংশ।
কিন্তু ‘তাণ্ডব, ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণহানি বেশি হয় বৈশাখ মাসের বজ্রসহ ঝড়ে। বর্ষাকালের চেয়ে বৈশাখ মাসের ঝড় ধ্বংসাত্মক, গুরুত্বপূর্ণ,’ বলছিলেন আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক।
বৈশাখ মাসে ঝড় রূদ্রমূর্তি ধারণ করে বলেই বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে স্থানীয়ভাবে একে কালবৈশাখী বলা হয়। কিন্তু পুস্তকের ভাষায় এটি বজ্রঝড়। অর্থাৎ মার্চ-মে মাসের ঝড়কে কালবৈশাখী ঝড় বলা হলেও আর জুন-সেপ্টেম্বরে ঝড় হলে তা কালবৈশাখী না, বজ্রসহ ঝড়।
বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে সাধারণত শেষ বিকেলে এবং সন্ধ্যার দিকে কালবৈশাখী হয়। কিন্তু পূর্বাঞ্চলে সন্ধ্যার পরে হয়। তবে কালবৈশাখী কোথায়, কতক্ষণ হবে সেটি আগে থেকেই জানিয়ে দেয়ার মতো বৈজ্ঞানিক কোনো উপায় এখনো নেই। আবার এটি হঠাৎ করে ধেয়েও আসে না।
মূলত, ব্যাপক গরমে ঈশান কোণে জমা হওয়া কালোমেঘ বা বজ্রমেঘ এ ঝড়ের আভাস দেয়।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ এর আগে বলেছিলেন, এটি তৈরি হয় পাঁচ বা ছয় ঘণ্টা আগে, আর শতভাগ বোঝা যায় দুই বা তিন ঘণ্টা আগে।
তার কথায়, ‘অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হলে ঢাকায় আসতে যতক্ষণ লাগে সেটি বলে দেয়া যায়। আর কোথাও কোথাও অন্য লক্ষণ দেখে বিকেলের ঝড় সম্পর্কে সকালে কিছুটা বলা সম্ভব হতে পারে।’
কালবৈশাখী ঝড়ের স্থায়িত্বকাল খুব বেশি হয় না। তবে কখনো কখনো এ ঝড় এক ঘণ্টারও বেশি স্থায়ী হতে দেখা গেছে। তবে এই ঝড় হয় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, বজ্রঝড়ের সময় ঊর্ধ্বাকাশে ২৭ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি হয়। যেখানে সূর্যের তাপমাত্রাই থাকে ছয় হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তিনি বলেন, ‘এই তাপমাত্রা যে এলাকার মেঘমালায় তৈরি হয়, সেই মেঘমালায় তখন বিস্ফোরণ হয়। অর্থাৎ, মেঘের সম্প্রসারণ হয়। সেই সম্প্রসারণ এত তাড়াতাড়ি হয় যে তখন বজ্রধ্বনি তৈরি হয়। বজ্রপাত ও বজ্রধ্বনি একই সময়ে সংঘটিত হয়। শব্দের গতিবেগ কম বলে আলো আগে দেখি।;
অর্থাৎ বজ্রসহ ঝড়ের সাথে মেঘের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে এবং বজ্রসহ ঝড়ের সময় আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো, বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি, ভারী বৃষ্টি, ঝড়ো বা দমকা হাওয়া হতে পারে।
এ নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘বজ্রসহ ঝড়ের সময় মেঘ উপরের দিকে উঠে। ভূ-পৃষ্ঠের তিন কিলোমিটার উপর থেকে আরো ১০-১২ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকে। কোনো কোনো বজ্রমেঘ যদি তীব্র আকার ধারণ করে, তখন তা ১৮-২০ কিলোমিটার পর্যন্তও উঠতে পারে।’
এই মেঘের ভেতরে থাকে অসংখ্য ছোট ছোট জলকণা ও বরফকণা। মেঘের একটি অংশ থাকে হিমাংক রেখার উপরে, যেখানে তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। মেঘ যত উপরের দিকে যায়, কণাগুলো একে অপরের সাথে মিলে ধীরে ধীরে জমাট বাঁধে ও বড় হতে থাকে। যখন কণাগুলো ভারী হয়ে যায়, তখন সেগুলো নিচের দিকে নামতে শুরু করে।
এগুলো নিচে নামতে নামতে উষ্ণ স্তরে এলে গলতে শুরু করে। যদি নিচের বাতাস খুব গরম হয়, তাহলে সেগুলো পুরোপুরি গলে বাতাসেই মিলিয়ে যেতে পারে, আর যদি পুরোপুরি না গলে, তাহলে শিলা বা বৃষ্টির ফোঁটা হিসেবে মাটিতে পড়ে।
বজ্রপাত থেকে বাঁচতে হলে কী করতে হবে?
বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো খোলা জায়গায় মানুষের উপস্থিতি। কৃষক, জেলে বা মাঠে কাজ করা মানুষরা ঝড়ের সময়ও বাইরে থাকেন, ফলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এছাড়া, অনেক এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং বজ্রপাত সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতার ঘাটতিও বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়।
বজ্রপাতের সময় কী করা উচিৎ, তা নিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা আছে।
সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো ঘরের ভেতর থাকা। খোলা মাঠ, জলাশয় বা উঁচু গাছের নিচে আশ্রয় নেয়া বিপজ্জনক।
অনেক ক্ষেত্রে বজ্রপাত কাছাকাছি আঘাত করলেও বৈদ্যুতিক প্রবাহ মাটির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা আশপাশে থাকা মানুষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই অতি জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে হলে রাবারের জুতা পরে যেতে হবে।
বজ্রপাতের সময় ধানক্ষেত বা খোলামাঠে যদি থাকেন তাহলে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসে পড়তে হবে।
বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে। ভবনের ছাদে বা উঁচু ভূমিতে যাওয়া উচিত হবে না।
খালি জায়গায় যদি উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, ধাতব পদার্থ বা মোবাইল টাওয়ার থাকে, তার কাছাকাছি থাকা যাবে না।
বজ্রপাতের সময় ছাউনিবিহীন নৌকায় মাছ ধরতে না যাওয়াই উচিত হবে। সমুদ্রে বা নদীতে থাকলে মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকার ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে।
যদি কেউ গাড়ির ভেতরে থাকে, তবে গাড়ির ধাতব অংশের সাথে শরীরের সংযোগ রাখা যাবে না।
আর বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না, তাই দ্রুত তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
সূত্র : বাসস



