অ্যাস্টন ভিলার ইতিহাস, ৩০ বছর পর পেল শিরোপার স্বাদ

অ্যাস্টন ভিলা ইউরোপা লিগ ফাইনালে ফ্রাইবুর্গ-কে ৩-০ গোলে হারিয়ে ৩০ বছর পর বড় শিরোপা জিতেছে। কোচ উনাই এমেরি রেকর্ড পঞ্চম ইউরোপা লিগ জিতলেন, আর এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ফাইনালে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখলেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

প্রায় ভুলতে বসা শিরোপার স্বাদ পেয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। গড়েছে নতুন ইতিহাস। তিন দশকের অপেক্ষার পর পুনরুদ্ধার করল চ্যাম্পিয়ন তকমা। ইউরোপীয় ফুটবলের হিসেবে ঘোচাল ৪৪ বছরের আক্ষেপ।

গতকাল বুধবার রাতে ইউরোপা লিগ ফাইনালে জার্মান ক্লাব ফ্রাইবুর্গের মুখোমুখি হয় অ্যাস্টন ভিলা। ইস্তানবুলের বেসিকতাস পার্কের এই লড়াইয়ে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছে উনাই এমেরির দল।

প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি এর আগে সবশেষ শিরোপা জিতেছিল ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে, জয় করেছিল ইংলিশ লিগ কাপ। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তাদের আগের সাফলের গল্প তো আরো পুরনো; সেই ১৯৮১-৮২ মৌসুমে ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল ক্লাবটি।

এরপর থেকে কেবল হাহাকার, হতাশা আর অপেক্ষা। শিরোপা যেন হয়ে উঠেছিল স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্ন ছুঁতে লম্বা সময় পাড়ি ধৈর্য্য ধরতে হলো ভিলাকে। তবে ধৈর্যের ফল মিষ্টি হয়েছে।

অথচ এই মৌসুমের শুরুটা ছিল একেবারেই হতাশাজনক। টানা ছয় ম্যাচ জয়হীন ছিল ভিলা, এই সময়ে মাত্র ২টি গোল করেছিল তারা। সেই দলটাই মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা নিশ্চিতের পর জিতে নিল ইউরোপা লিগের শিরোপাও।

এদিকে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের দ্বিতীয় সেরা এই প্রতিযোগিতায় কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জয়ের রেকর্ড আগে থেকেই এমেরির দখলে। পঞ্চমবার জিতে সেই রেকর্ড আরো পোক্ত করলেন তিনি।

এই স্প্যানিয়ার্ড সেভিয়ার হয়ে টানা তিনবার জয়ের পর, সবশেষ ২০২০-২১ আসরে আবার এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন তিনি ভিয়ারিয়ালের হয়ে। মাঝে আর্সেনালের হয়ে একবার রানার্সআপ হোন এমেরি।

এদিকে ভিলার আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ নিজেকে নিয়ে গেলেন আরো অনন্য উচ্চতায়। ক্যারিয়ারে কোনো ফাইনাল না হারার রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখলেন তিনি।

সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৭টি ফাইনাল খেলে সব কটি জিতেছেন মার্তিনেজ। যেখানে আছে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা।

ভিলা তাদের শিরোপা জিতেছে দাপুটে জয় দিয়ে। ইউরি টিয়েলেমান্স ৪১ মিনিটে দলকে এগিয়ে নেয়ার পর, ব্যবধান বাড়ান এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। বিরতির আগ মুহূর্তে গোল করেন তিনি।

তৃতীয় গোলটি করেন মর্গ্যান রজার্স। ৫৮ মিনিটে তার করা গোলে শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় ভিলার। এরপর কেবল অপেক্ষা ছিল শেষ বাঁশি বাজার।