লিবিয়ার উত্তপ্ত মরুভূমি আর ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশি একসময় যা ছিল পর্যটকদের আকর্ষণ, আজ তা হাজারো বাংলাদেশীর কাছে এক বিভীষিকার নাম। উন্নত জীবনের হাতছানি, পরিবারের সচ্ছলতা আর রঙিন ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে ঘর ছাড়া যুবকরা আজ ফিরছেন নিথর দেহ হয়ে, নতুবা সাগরের লোনা জলেই ঘটছে তাদের সলিল সমাধি। জাতিসঙ্ঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত পাঁচ বছরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে প্রাণহানি এবং সমুদ্র থেকে উদ্ধারের ঘটনা বহু বেড়েছে।
এ সময়ে সাত লাখ ৫০ হাজার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে পারলেও ১৩ হাজার অবৈধ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে বা নিখোঁজ রয়েছেন। কোস্টগার্ড ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভাসমান অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করেছে দুই লাখ। ভূমধ্যসাগরের এই পথ অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা নথিবদ্ধ সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। এই পরিসংখ্যানে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সব সময়ই ওপরের সারিতে থাকে। বিশেষ করে সেন্ট্রাল মেডিটেরানিয়ান রুট (লিবিয়া থেকে ইতালি), যা বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক রুট হিসেবে পরিচিত, সেখানে প্রতি বছর শত শত বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়, ধরা পড়েন বা উদ্ধার হন।
সম্প্রতি ২০২৬ সালের ২২ মার্চ গ্রিসের পথে যাত্রা করা একটি রাবারের নৌকা ডুবে ২০ বাংলাদেশীর মৃত্যু এই মরণযাত্রাকে আবারো আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এদের অধিকাংশের বাড়ি সুনামগঞ্জ। দালালদের প্রতিশ্রুতি ছিল ‘নিরাপদ যাত্রা’। ইঞ্জিনচালিত রাবারের বোটে গাদাগাদি করে তোলা হয়েছিল সামর্থ্যরে অনেক বেশি যাত্রী। মাঝসমুদ্রে নৌকাডুবি ঘটে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, টানা ছয় দিন তারা খাবার ও পানিহীন অবস্থায় নীল জলরাশিতে ভাসছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের রায়হান চৌধুরী (৩০) নামে এক যুবককে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় আটক রেখে ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরও ছেড়ে দেয়া হয়নি। আরো ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয়ার জন্য মারধর করে ভিডিওকলে হাতের আঙুল কেটে দেয়ার দৃশ্য দেখিয়ে হাতের কব্জি কাটার হুমকি দিচ্ছে দালাল চক্র। ওই দালাল চক্রের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
ইউরোপ যাওয়ার এই অন্ধকার পথের নাম দেয়া হয়েছে ‘গেম’। আর লিবিয়ার গোপন আস্তানাগুলোকে বলা হয় ‘গেমঘর’। নামটি রোমাঞ্চকর মনে হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে আছে জঘন্য নিষ্ঠুরতা। দালালচক্র ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরও লিবিয়ার এই বন্দিশালাগুলোতে চলে অমানবিক নির্যাতন। পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ওপর চালানো হয় স্টিমরোলার। এরপর এক অন্ধকার রাতে তাদের ঠেলে দেয়া হয় উত্তাল সমুদ্রের মুখে। সরকারিভাবে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কেন জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন এই যুবকরা?
কেন মরণযাত্রার ঝুঁকি
মৃত্যুঝুঁকি এবং ভয়াবহ নির্যাতনের কথা জানা সত্ত্বেও বাংলাদেশী তরুণদের এই মরণযাত্রায় কেবল একটি আবেগপ্রসূত সিদ্ধান্ত নয়; এর পেছনে রয়েছে গভীর সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং মনস্তাত্ত্বিক কারণ। আমাদের সমাজব্যবস্থায় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কোনো তরুণের সাফল্য পরিমাপ করা হয় তার পরিবারের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা দিয়ে। পাশের বাড়ির কেউ অবৈধ পথে ইউরোপ গিয়ে বাড়িতে দালান তুললে, সেই পরিবারের সামাজিক মর্যাদা বেড়ে যায়। এটি অন্য পরিবারগুলোর ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে, যা তরুণদের ‘মরিয়া’ করে তোলে। দেশে থেকে ছোটখাটো কাজ করাকে অনেকে ‘লজ্জাজনক’ মনে করেন; কিন্তু বিদেশে গিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটলেও সেটিকে ‘বড় কিছু’ হিসেবে দেখা হয়।
যারা এই বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে পেরেছেন, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (যেমন- টিকটক বা ফেসবুক) নিজেদের চাকচিক্যময় জীবনের ছবি পোস্ট করেন। তারা যে অবর্ণনীয় কষ্ট বা লাঞ্ছনা সহ্য করে পৌঁছেছেন, তা লজ্জায় বা শ্রেষ্ঠত্ব জাহিরের নেশায় গোপন করেন। দেশে থাকা তরুণরা কেবল সাফল্যের গল্পটিই শোনেন। তারা ভাবেন, ‘অমুক যদি পৌঁছাতে পারে, তবে আমি কেন পারব না?’ এই আত্মবিশ্বাস তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। এদিকে মানবপাচারকারী ও দালালদের এজেন্টরা তরুণদের ইউরোপ যেতে প্রলুব্ধ করে। অধিকাংশ দালাল স্থানীয় পরিচিত মুখ বা আত্মীয়। তারা পরিবারগুলোকে বোঝায়, টিভি-পত্রিকায় যা দেখায় তা অতিরঞ্জিত, আমাদের লাইন খুব নিরাপদ। আগে পৌঁছাবেন, তারপর টাকা দেবেন- এমন লোভনীয় অফার দিয়ে তারা দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রলুব্ধ করে। অথচ একবার লিবিয়া পৌঁছানোর পর শুরু হয় আসল নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়।
দেশে কঠোর পরিশ্রম করেও জীবনমান উন্নয়নে যে দীর্ঘ সময় লাগে, ইউরোপে গিয়ে তার চেয়ে দ্রুত ভাগ্য বদলানো সম্ভব এই ধারণাটি তরুণদের মনে গেঁথে আছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কর্মসংস্থান না পাওয়া বা ব্যবসায়িক লালফিতার দৌরাত্ম্য অনেককে হতাশ করে, যা তাদের দেশান্তরী হতে বাধ্য করে। অনেক পরিবার ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা জমি বিক্রি বা ঋণ করে দালালের হাতে তুলে দেয়। এই বিপুল অর্থ দিয়ে দেশে কোনো ক্ষুদ্র শিল্প বা ব্যবসায় শুরু করার চেয়ে বিদেশে পাঠানোকে তারা ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ মনে করে। তাদের ধারণা, বিদেশে গেলে এই টাকা এক-দুই বছরেই উঠে আসবে।
বৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল, ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। স্বল্পশিক্ষিত তরুণদের জন্য ইউরোপের ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে তারা সহজ কিন্তু অবৈধ অন্ধকার পথটি বেছে নেয়। বাংলাদেশী তরুণদের এই যাত্রার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হলো ‘একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চেয়ে নিশ্চিত ঝুঁকির চ্যালেঞ্জ নেয়া।’ তারা মনে করেন, দেশে থেকে অভাবের মধ্যে তিল তিল করে মরা আর সমুদ্রে একবারে মরার মধ্যে কোনো তফাত নেই। এই হতাশা আর উচ্চাকাক্সক্ষার মিশ্রণই তাদের বিচারবুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।
কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি
কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এই মরণযাত্রা বন্ধে টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে কাজ করতে পারে। যখন একজন তরুণের হাতে নির্দিষ্ট কোনো ‘স্কিল’ বা দক্ষতা থাকে, তখন তার আত্মবিশ্বাস এবং সুযোগ বদলে যায়। ইউরোপসহ উন্নত দেশগুলোতে বর্তমানে অদক্ষ শ্রমিকের চেয়ে দক্ষ শ্রমিকের (যেমন- ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, ওয়েল্ডার, কেয়ারগিভার বা আইটি টেকনিশিয়ান) চাহিদা অনেক বেশি। জার্মানি বা ইতালির মতো দেশগুলো এখন ‘স্কিলড মাইগ্রেশন’ পলিসি চালু করেছে। কারিগরি দক্ষতা থাকলে একজন তরুণ বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে মর্যাদার সাথে বিদেশ যেতে পারে। তখন তাকে আর সাগরের ঝুঁকি নিতে হয় না। একজন অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে গিয়ে যে আয় করেন, একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান তার চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেশি আয় করতে পারেন। ৩০ লাখ টাকা খরচ করে অবৈধভাবে গিয়ে ক্লিনার বা কৃষিকাজ করার চেয়ে, পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকায় বৈধভাবে দক্ষ কর্মী হিসেবে গেলে বিনিয়োগ দ্রুত উঠে আসে এবং জীবনের নিরাপত্তা থাকে।
কারিগরি শিক্ষা কেবল বিদেশের দুয়ার খোলে না, এটি দেশের ভেতরেও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ দেয় এবং উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সুগম করে। একজন তরুণ যদি অটোমোবাইল বা ইলেকট্রনিক্সে দক্ষ হয়, তবে সে ২০ লাখ টাকা দালালের হাতে না দিয়ে সেই টাকা দিয়ে দেশে নিজের ওয়ার্কশপ বা ব্যবসায় শুরু করতে পারে। দক্ষতা থাকলে বেকার থাকার ভয় থাকে না। যাদের কোনো বিশেষ দক্ষতা নেই, তারাই সাধারণত দালালদের সহজ শিকারে পরিণত হয়। কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়ায় একজন তরুণ আধুনিক বিশ্ব এবং আইনি বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারে। এই শিক্ষা তাকে দালালদের অবাস্তব প্রলোভন থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করে। সে বুঝতে পারে, দক্ষতা ছাড়া ইউরোপ যাওয়া মানেই সেখানে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা। বর্তমানে সরকারি পলিটেকনিক বা কারিগরি কেন্দ্রগুলো থেকে আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেট দেয়া হচ্ছে। এই সার্টিফিকেটগুলো বিদেশে একজন কর্মীর রক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করে। কোম্পানিগুলো সরাসরি ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে এদের নিয়োগ দেয়, ফলে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের দৌরাত্ম্য কমে যায়। তবে কেবল কারিগরি শিক্ষা দিলেই হবে না, সাথে আরো দু’টি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে :
এই দক্ষ কর্মীরা কিভাবে সরাসরি বিদেশী কোম্পানি বা বৈধ এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করবে, সেই তথ্য তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষ করার পর বৈধভাবে বিদেশ যেতে বা দেশে ব্যবসায় শুরু করতে প্রয়োজনীয় মূলধন বা ঋণের ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয়ভাবে সহজ করতে হবে। অদক্ষতা হলো অন্ধকারের মতো, যা মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে। আর কারিগরি দক্ষতা হলো আলোর মতো, যা তরুণদের সামনে বৈধ এবং নিরাপদ উপার্জনের পথ খুলে দেয়।
লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাত্রা একটি কাঠামোগত সমস্যা, যার সমাধানের জন্য রাষ্ট্রীয়, সামাজিক এবং আন্তর্জাতিক তিনটি স্তরে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রতিটি এলাকায় দালালদের একটি স্থানীয় নেটওয়ার্ক থাকে। এদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে যে জেলাগুলো থেকে বেশি মানুষ যাচ্ছে (যেমন- মাদারীপুর, শরীয়তপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ), সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে দালালদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া আরো সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুততর করতে হবে। জেলা পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসগুলোকে আরো সক্রিয় হতে হবে যাতে মানুষ দালালের কাছে না গিয়ে সরাসরি সরকারি সেবা নিতে আগ্রহী হয়। যারা বিদেশে যাওয়ার জন্য ২০-৩০ লাখ টাকা জোগাড় করেন, তাদের জন্য দেশে কর্মসংস্থান বা ছোট উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। ‘ইউরোপ মানেই সোনার হরিণ’-এই ভুল ধারণা ভাঙতে হবে। সাগরে নিখোঁজ হওয়া বা লিবিয়ায় নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের করুণ কাহিনী প্রামাণ্যচিত্র আকারে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রদর্শন করা যেতে পারে।
মসজিদ, মন্দির এবং স্থানীয় ক্লাবগুলোর মাধ্যমে এই মরণযাত্রার ধর্মীয় ও সামাজিক কুফল তুলে ধরতে হবে। জুমার খুতবায় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক সময় পরিবারের চাপেই তরুণরা এই ঝুঁকি নেন। অভিভাবকদের বোঝাতে হবে, সন্তানের লাশের চেয়ে তার বেকারত্বও ভালো।
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে স্থানীয় যুবকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হলে অভিবাসনের প্রবণতা কমবে। ইতালি, গ্রিস বা অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে বৈধ পথে জনশক্তি পাঠানোর জন্য ‘শ্রমবাজার চুক্তি’ স্বাক্ষর করা। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ওখানকার স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সমন্বয় করে গেমঘর বা বন্দিশালাগুলো শনাক্ত করতে হবে এবং বন্দী বাংলাদেশীদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আইনি সহায়তা প্রদান করা, যাতে তারা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে সাহস পায়। পাচারকারীদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সেই টাকা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা যেতে পারে, যা অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হবে।
সময় এসেছে এই ‘মরণফাঁদ’ থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করার। এই মরণযাত্রা বন্ধে কেবল আইন দিয়ে হবে না, মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। যখন একজন যুবক জানবে যে দেশে কাজ করার সম্মান ও সুযোগ আছে এবং বৈধ পথে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি সহজ, তখনই সে ২০ লাখ টাকা দিয়ে মৃত্যুর টিকিট কেনা বন্ধ করবে।
লেখক : অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা



